গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মুখর চট্টগ্রাম, ‘সুরের আঙিনায় গুরুপ্রণাম’ অনুষ্ঠানে মুগ্ধ দর্শক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার আবেগে সুরের মূর্ছনায় মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তন। প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রাজেশ সাহার শুভ জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘সুরের আঙিনায় গুরুপ্রণাম’-এ তাঁর ২০ শিক্ষার্থীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়েছেন হলভর্তি দর্শক।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গুরুর দীর্ঘদিনের সঙ্গীতসাধনা, শিষ্যদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজেশ সাহার ২০ জন শিক্ষার্থী এককভাবে বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় উঠে আসে রাগপ্রধান গান, দেশের গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, লোকগান ও আধুনিক গান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল সমবেত খেয়াল ও সমবেত গুরুবন্দনা।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই শিল্পীদের পরিবেশনায় মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় মুগ্ধতার আবহ। একের পর এক সঙ্গীত পরিবেশনার সঙ্গে দর্শকদের করতালি ও প্রশংসায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। বিভিন্ন পরিবেশনা শেষে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও আন্তরিক প্রশংসা আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত জহর মুখার্জি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক (গাইনী) ডা. রজত বিশ্বাস এবং বাকারসন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সঙ্গীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ।
এ সময় বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. নারায়ণ চন্দ্র দাশ, কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল এম জাহাঙ্গীর আলম এবং তবলা গুরু সুদীপ সেনগুপ্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী অচিন্ত কুমার চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী ও বাংলাদেশ বেতার, চট্টগ্রামের অনুষ্ঠান ঘোষক প্রবীর পাল।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা রাজেশ সাহার দীর্ঘদিনের সঙ্গীতসাধনা এবং তাঁর শিষ্যদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এমন আয়োজন শুধু একজন শিল্পীর প্রতি সম্মান জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সঙ্গীতচর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘সুরের আঙিনায় গুরুপ্রণাম’ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ঝুলন দত্ত ও সদস্য সচিব তপু বড়ুয়া স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিষ্যদের পরিবেশনা এবং দর্শকদের আন্তরিক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সার্থক হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।