দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের পাশে সেনাবাহিনী, শুকনাছড়ির দুই বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি ও শিক্ষা উপকরণ

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের পাশে সেনাবাহিনী, শুকনাছড়ির দুই বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি ও শিক্ষা উপকরণ

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের পাশে সেনাবাহিনী, শুকনাছড়ির দুই বিদ্যালয়ে সুপেয় পানি ও শিক্ষা উপকরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের পানির সংকটের সমাধান হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষা উপকরণ পেয়ে পড়াশোনায় নতুন উৎসাহ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার ১ নম্বর লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শুকনাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপদ ও সুপেয় পানির সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুকনাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে ছিলেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিদ্যালয়টিতে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলাও ছিল চ্যালেঞ্জের বিষয়। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুপেয় পানির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় এবং ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে শুকনাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করায় স্থানীয়দের মধ্যেও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু পানির সংকট নিরসনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম। শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গম এলাকার অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিয়মিত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ তাদের পড়াশোনাকে আরও সহজ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়মুখী আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াসির বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও বেশি উৎসাহী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শুকনাছড়ি এলাকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনই পূরণ করে না, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ ও সুন্দর করতে এ ধরনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছাতে সময় লাগে। ফলে এসব এলাকায় মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে যেসব প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে, তাদের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শুকনাছড়ির দুই বিদ্যালয়ে সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রমও তার ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, ক্রীড়া ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। শুকনাছড়ির এ উদ্যোগও সেই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতারই একটি উদাহরণ। দুর্গম পাহাড়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক সুবিধার অভাবও তাদের স্বাভাবিক জীবন ও পড়াশোনায় প্রভাব ফেলতে পারে, সেখানে প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মতো কার্যক্রম শুধু একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করে না, বরং দুর্গম এলাকার নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক ও জনহিতকর কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও দুর্গম পাহাড়ের মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *