বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান

বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান

বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে আগুন বাজারের অন্যান্য দোকান ও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারেনি। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে বাজারের পাহারাদার আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। মুহূর্তেই তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন এবং বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি এই বাজারে দোকানগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সামান্য বিলম্ব হলেও তা দ্রুত আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে ভোররাতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানে না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে আগুনের ভয়াবহতা থেকে ১৩টি দোকান রক্ষা করা যায়নি। আগুনে দোকানগুলোর সব মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা হলেন রিপন জ্যোতি চাকমা, প্রদীপ চাকমা, বাদুরাম ত্রিপুরা, চিকন্যা চাকমা, পারবিন আক্তার, সাথোয়াই মারমা, শংঙ্খ রাজ চাকমা, নিহার বিন্দু চাকমা, প্রনিজ চাকমা, উনুচিং মারমা, মধু মঙ্গল চাকমা, কাজল কর্মকার ও আবু বক্কর সওদাগর।

বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগুনের সময় ১৩টি দোকানের কোনো মালিকই সেখানে ছিলেন না। সবাই নিজ নিজ বাড়িতে রাতযাপন করছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে দোকানে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত নিহার বিন্দু চাকমা ও চিকন্যা চাকমার ধারণা, কোনো একটি দোকানে ফ্রিজ চালু থাকা কিংবা গ্যাসের চুলা অতিরিক্ত গরম হয়ে ত্রুটি বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান

বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকানের মালামালসহ আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-ফয়সালের প্রশাসনিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বলিপাড়া বাজার থানচির গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। ভোররাতে বাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে পাশের দোকানগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি দোকানের বাইরে আরও বহু দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

বলিপাড়া বাজারকে বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করল বিজিবির দ্রুত তৎপরতা, পুড়েছে ১৩ দোকান

এমন পরিস্থিতিতে আগুনের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দ্রুত তৎপরতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন একটি বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

একদিকে ১৩টি দোকান পুড়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বলিপাড়া বাজারে আরও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে ভবিষ্যতে বাজারে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed