বান্দরবানে পাহাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় জলবায়ু সহনশীলতা পরিকল্পনা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বান্দরবানে স্থানীয় সহনশীলতা পরিকল্পনা (LRP) উপস্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে অংশগ্রহণমূলক অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম হলে জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সহনশীলতা পরিকল্পনা উপস্থাপন ও আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং।
সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর, সদস্য লুমাই মং, সদস্য চনুমং, সদস্য অ্যাডভোকেট উমেসিং, ইউএনডিপির বান্দরবান জেলা প্রকল্প মূল্যায়ন কর্মকর্তা খুশিরায় ত্রিপুরা, ইআরআরডি-সিএইচটি প্রকল্পের করলিয়া কম্পোনেন্টের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার উপকারভোগী, ৩৪ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় নিরাপদ পানি, কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তারা।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বে অংশগ্রহণমূলক অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে এলাকার বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৬০টি গ্রামে এ কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে নিরাপদ পানির উৎস তৈরি, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জীবন-জীবিকার সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচনা সভায় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পাড়ায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি, মৎস্য, খামার, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও মেকানিক্যাল কাজসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে নারী উদ্যোক্তারা প্রদর্শনীতে অংশ নেন। প্রধান অতিথি মাম্যাচিংসহ অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও সহনশীল করে তোলা সম্ভব।
‘কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন ইন সিএইচটি (CORLIA)’ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ERRD-CHT ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।