উখিয়ার বৌদ্ধ বিহারে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট, গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রুমখাঁ চৌধুরীপাড়া আর্য্য উপাসনা বৌদ্ধ বিহারে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট চলছে। ধর্মীয় উপাসনা, প্রার্থনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত মানুষের সমাগম হলেও বিহারে নিজস্ব পানির ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিহার পরিচালনা কমিটি, ভান্তে, উপাসক-উপাসিকা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিহারে নিজস্ব গভীর নলকূপ না থাকায় পাশের বাসিন্দা মৃদুল বড়ুয়ার বাড়ির নলকূপ থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি নিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে। তবে ধর্মীয় বড় অনুষ্ঠান, বিশেষ করে কঠিন চীবরদান ও বিভিন্ন প্রার্থনার সময় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম বেড়ে গেলে পানির চাহিদাও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। তখন সীমিত উৎস থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মৃদুল বড়ুয়া বলেন, “পানির প্রয়োজন শুধু বিহারের ধর্মীয় কার্যক্রমেই নয়, আশপাশের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনেও রয়েছে। বর্তমানে আমার বাড়ির নলকূপ থেকে পাইপের মাধ্যমে বিহারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে অতিরিক্ত মানুষের চাহিদার কারণে পানির সংকট দেখা দেয়।”
বিহারের পাশের বাসিন্দা মুকুল বড়ুয়া ও ভবতোষ বড়ুয়া বলেন, বিহার এলাকায় একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে বিহারে আসা উপাসক-উপাসিকা ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও নিরাপদ পানির সুবিধা পাবেন। তাদের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের জন্যও একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হবে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতা তাপু বড়ুয়া বলেন, “বিহারে দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যা রয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনার সময় মানুষের সমাগম বাড়লে সংকট আরও প্রকট হয়। একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা গেলে বিহারে আগত মানুষসহ আশপাশের বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বিহারের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর ধরে উপাসনা ও শিক্ষকতার কাজে সম্পৃক্ত ভান্তে বলেন, পানির সংকট দীর্ঘদিনের। কঠিন চীবরদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও প্রার্থনায় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিহারে আসেন। এসব সময়ে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়। বিহার প্রাঙ্গণে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা গেলে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় অনেক পরিবারও নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, বিহার প্রাঙ্গণে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে একদিকে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে আশপাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নিরাপদ পানির সংকটও অনেকটা দূর হবে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা থাকলে বিহার ও এর আশপাশের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যসম্মত রাখাও সম্ভব হবে।
বিষয়টি অবগত করলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আর্য্য উপাসনা বৌদ্ধ বিহারের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট এখন শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বিহারে আসা মানুষ এবং আশপাশের পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনও জড়িত। তাই জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিহার প্রাঙ্গণে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।