৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবির প্রতিবাদ, বান্দরবানে পিসিসিপির নিন্দা

৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবির প্রতিবাদ, বান্দরবানে পিসিসিপির নিন্দা

৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবির প্রতিবাদ, বান্দরবানে পিসিসিপির নিন্দা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কর্মসূচির প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা। একই সঙ্গে ব্যানারে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচিকে ঘিরে তাদের অবস্থান তুলে ধরে পিসিসিপি।

বিবৃতিতে পিসিসিপি দাবি করে, ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংগঠনটি এ ধরনের কর্মসূচির নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

পিসিসিপি বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাদের দাবি, ওই আন্দোলনের অন্যতম বিষয় ছিল বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার সংস্কার ও বিলুপ্তি। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমানে আবারও কোটা পুনর্বহালের দাবি তোলাকে সংগঠনটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশ তুলনামূলকভাবে কম হওয়া সত্ত্বেও ৫ শতাংশ কোটা দাবি করা নিয়ে তারা আপত্তি জানাচ্ছে। পিসিসিপির দাবি, কোটা সংস্কারের পরও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ কোটা বহাল রয়েছে। সরকারি চাকরির বর্তমান কোটা ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারিত থাকার বিষয়টি সরকারি নথিতেও উল্লেখ রয়েছে।

পিসিসিপি আরও দাবি করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য আলাদা কোটা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়, যার ফলে একই অঞ্চলে বসবাসকারী অন্য জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন।

May be an image of text

ব্যানারে ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে পিসিসিপি। সংগঠনটি এটিকে রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। তবে ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি নথিতে ভিন্ন ধরনের পরিভাষা ব্যবহারের নজির রয়েছে; যেমন সরকারি একটি সামাজিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ‘Small Ethnic Communities’-এর পাশাপাশি ‘Adivasis/Tribal people’ শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে শব্দটির ব্যবহারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্ক রয়েছে।

এ ছাড়া পিসিসিপি অভিযোগ করেছে, বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান সরকারি কলেজ শাখার ব্যানার ব্যবহার করা হলেও সেখানে বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করানো হয়েছে। সংগঠনটি এ বিষয়টিকে স্পর্শকাতর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে পিসিসিপি আরও দাবি করে, কোটা পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। সংগঠনটির মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে; তবে কোনো দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক কোটা নীতি ও সব নাগরিকের সমঅধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

পিসিসিপি সরকারের প্রতি কর্মসূচিটির পেছনে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার এবং আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছে, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা তাদের অবস্থান থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *