তিতাসের নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

তিতাসের নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

তিতাসের নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের নতুন একটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত আনুষ্ঠানিকভাবে তিতাস-২৮ কূপটির উদ্বোধন করেন। এরপর বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সময়ে নতুন কূপ থেকে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়া ইতিবাচক খবর।

তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিতে স্বনির্ভর হতে আমরা ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে ২৭টি কূপের খননকাজ চলছে। তিতাস-২৮ সেগুলোর একটি।’

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আরও তিনটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব কূপে খনন সফল হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আমদানি করা এলএনজির দাম দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে দামে আগে এলএনজি কিনতাম, এখন তার দুই থেকে তিন গুণ দাম দিতে হচ্ছে। এই ব্যয় বহন করার সক্ষমতা আমাদের নেই।’

দেশীয় গ্যাস কোম্পানিগুলো প্রায় দেড় দশক অবহেলিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান রাখার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছি। এ কারণেই তারা নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পারছে।’

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানিকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুটি ড্রিলিং রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। আরও একটি রিগ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজ করতে পারেন।

বিজিএফসিএলের তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। কাজ শেষ হয় ১৯ জুন। কূপটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, তিতাস-কামতা গ্যাসক্ষেত্রে চারটি কূপ খনন প্রকল্পে সমন্বিত ড্রিলিং ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সংকট চলছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করে চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমদানির পাশাপাশি এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা করছি।’

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জলিল প্রামাণিক জানিয়েছেন, দেশে বড় ধরনের গ্যাস সরবরাহ সংকট থাকায় স্থানীয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে আমাদের নেওয়া উদ্যোগগুলোর একটি তিতাস-২৮। এটি একটি অগভীর কূপ। আমাদের লক্ষ্য আরও গভীর কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো।’

তিনি জানান, তিতাস-৩১ কূপের খননকাজ বর্তমানে চলছে। এটিকে দেশের সবচেয়ে গভীর কূপ খনন প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা, বিজিএফসিএল ও সিসিডিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।