মহালছড়িতে গোলের লড়াই ছাপিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন অর্নিবান ক্লাব

মহালছড়িতে গোলের লড়াই ছাপিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন অর্নিবান ক্লাব

মহালছড়িতে গোলের লড়াই ছাপিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন অর্নিবান ক্লাব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বর্ণিল আয়োজন, উৎসবমুখর পরিবেশ আর পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘মহালছড়ি সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে মহালছড়ি স্টেডিয়াম পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। মাঠজুড়ে ছিল তরুণদের উচ্ছ্বাস, দর্শকদের করতালি আর বিভিন্ন বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতি। তবে ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি এ আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল পরিবেশ রক্ষার বার্তা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে মোট ২৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করেছে সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় মহালছড়ি অর্নিবান ক্লাব ও মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়া একাদশ। শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচ দেখতে মহালছড়ি স্টেডিয়ামে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। শেষ পর্যন্ত মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়া একাদশকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় মহালছড়ি অর্নিবান ক্লাব।

তবে ফলাফলের বাইরেও পুরো আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার কারণে। পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একই মাঠে এনে খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলামুখী করার মধ্য দিয়ে তাদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ আয়োজনের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করেছে মহালছড়ি জোন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে টুর্নামেন্টে উপস্থিত দর্শকদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। শুধু ফাইনাল ম্যাচেই পাঁচ হাজার চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে মোট ২৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গাছ লাগানোর অভ্যাস তৈরি করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খেলাধুলার মতো জনপ্রিয় একটি আয়োজনকে পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করার ফলে একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে সবুজায়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মহালছড়িতে গোলের লড়াই ছাপিয়ে সম্প্রীতির বার্তা, ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন অর্নিবান ক্লাব

ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ী মহালছড়ি অর্নিবান ক্লাব ও রানার্সআপ মাইসছড়ি চৌধুরী পাড়া একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন মহালছড়ি জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল জাবির আসিফ। এ সময় আয়োজক, ক্রীড়াপ্রেমী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিতরণ শেষে মহালছড়ি জোন অধিনায়ক বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, ফাইনাল ম্যাচে পাঁচ হাজারসহ পুরো টুর্নামেন্টে মোট ২৫ হাজার গাছের চারা খেলোয়াড় ও দর্শকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মহালছড়ির মতো পাহাড়ি এলাকায় খেলাধুলার আয়োজনের গুরুত্ব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একই মাঠে একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে পারস্পরিক পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়ে। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সহনশীলতার চর্চাও তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মহালছড়ি সম্প্রীতি কাপের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু একটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়; বরং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একটি ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে একই জায়গায় নিয়ে আসা। বিশেষ করে দর্শকদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাধুলার সঙ্গে সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধকে যুক্ত করেছে। ফলে টুর্নামেন্টটি প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পরিবেশ সচেতনতার একটি সম্মিলিত আয়োজন হিসেবে মানুষের কাছে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ের তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক বন্ধন জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ২৫ হাজার চারা বিতরণের মাধ্যমে একটি ক্রীড়া আয়োজনকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সচেতনতার বার্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সবুজায়ন কার্যক্রমে মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *