মাচালং বনবিভাগের অফিসে হামলা মামলার আসামি বাবুধন চাকমা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন

মাচালং বনবিভাগের অফিসে হামলা মামলার আসামি বাবুধন চাকমা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন

সাজেকেমাচালং বনবিভাগের অফিসে হামলা মামলার আসামি বাবুধন চাকমা প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন জনসাধারণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইউপিডিএফের কর্মসূচি

গোলচিহ্নিত বাবুধন চাকমা

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল ডেস্ক ও রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সাজেকের মাচালং বাজার এলাকায় বন বিভাগের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, মোটরসাইলে পোড়ানো ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি বাবুধন চাকমা সম্প্রতি প্রকাশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পর্যটন ও স্থানীয় জনজীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গতবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাচালং সদর বিট অফিসে হামলার ঘটনায় মাচালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে সাজেক থানায় একটি মামলা করেন। মামলার নম্বর ১(১২)২৫। এজাহারে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার বলছে, ওই মামলায় বাবুধন চাকমাকে ছয় নম্বর আসামি করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় দশ মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ।

এজাহার অনুযায়ী, এ্যাগোজ্জাছড়ি (১৪ কিলো) সংরক্ষিত বনের ৬১ নম্বর কম্পার্টমেন্টে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বন বিভাগের অভিযানকে কেন্দ্র করে মাচালং সদর বিট অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এজাহারে বলা হয়, বিটন চাকমা, প্রদীপ চাকমা (রনির বাপ), সুখী চাকমা ও বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে আসামিরা দা, লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে গেট, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি পাশের ভবনের গ্রিল ভাঙচুর এবং কর্মচারীদের একটি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলেও অগ্নিসংযোগ করে এসব সন্ত্রাসীরা।

হামলার সময় বন বিভাগের কর্মচারী মো. আশরাফুল আলম ইট ও কাঁচের বোতলের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের সেনা সদস্য ও সাজেক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে সাজেকে একের পর এক সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এসব কর্মসূচিতে বাবুধন চাকমার ভূমিকা রয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফের (প্রসীত) ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে ইউপিডিএফের সমর্থন পেতে বাবুধন চাকমা সশস্ত্র গোষ্ঠীটির মদদে এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবরোধের কারণে পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। পর্যটননির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের মতে, জনসাধারণের চলাচল ও জীবিকা বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, বন বিভাগের কার্যালয়ে হামলা ও সরকারি সম্পদ ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও আসামিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তদন্তের অগ্রগতি কী এবং বাবুধন চাকমাসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট পদক্ষেপ চান তাঁরা।

সাজেকের নিরাপত্তা, পর্যটন ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সহিংসতা, বেআইনি বাধা এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মামলার বর্তমান তদন্তের অবস্থা, আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ এবং বিলম্বের কারণ জানতে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেনের সাথে কথা হয় সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালের।

ওসি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। আর বাদী অনেককেই চেনেন না, ফলে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করছেন।

অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার অনেকেই প্রকােশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছে; পুলিশ তাদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কয়েকবার অভিযান করেও গ্রেফতার করতে পারে নি। পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারনে তা সম্ভব হয় নি। তবে পুলিশ বসে নাই, নজরদারি অব্যাহত আছে।

উল্লেখ, সাম্প্রতিক সময়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও আশে-পাশের এলাকাগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও জেএসএস সন্ত্রাসীদের মধ্যে টানা কয়েকদিনের গোলাগুলির পর জেএসএসের সাথে টিকতে না পেরে স্থানীয় জনসাধারনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাঠে নামায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। নাম সর্বস্ব দুটি সংগঠনের ব্যানারে স্থানীয়দের জড়ো করে একের পর এক অবরোধের নামে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে নিশানা করে স্থানীয়দের উসকে দেয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। আর এসব কর্মকান্ডে মূখ্য ভুমিকা রাখছেন ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী ও বনবিভাগের অফিস ভাংচুরের মামলার এজহারনামীয় আসামী বাবুধন চাকমা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed