সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান জরুরী

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান জরুরী

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান জরুরী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং সাজেকে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে; সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি ২০৩ ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার পরপরই পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ নতুন করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার শুরু করেছে। জানা গেছে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের চিল্লাছড়িতে আজ মিয়্যা রঞ্জন চাকমার একটি জরাজীর্ণ ঘর ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীর। পুড়িয়ে দিয়েছে। মূলত সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বন্ধ করতেই স্বজাতির ঘর পুড়িয়ে দিয়ে তারা সুপরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে প্রচার চালাচ্ছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত আইডিগুলো থেকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।

গত ১৩ অক্টোবর দুপুরে ইউপিডিএফ ‘সংখ্যালঘুর অধিকার’ নিয়ে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নিজেদের পরিচালিত ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ নামের সংগঠনের ব্যানারে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে, যা ছিল সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মানুষ হত্যা ও পর্যটকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তার চট্টগ্রামে এসে সংখ্যালঘুর অধিকার নিয়ে কথা বলছে, যা নিছক ভাঁওতাবাজি।

গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বায়ত্তশাসনের নামে ইউপিডিএফ পাহাড়ি জনগণের কাছ থেকে যে চাঁদা। তুলে আসছে, তা দিয়ে তারা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করেনি; বরং অস্ত্র কিনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা ও নিজেদের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করেছে এবং সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানিয়েছে। ইউপিডিএফের সহিংসতায় ইতোমধ্যে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং বহু মা-বোন তাদের স্বামী ও সন্তান হারিয়েছেন।

গত ৮ অক্টোবর ইউপিডিএফ মদদপুষ্ট সংগঠন কর্তৃক সাজেক উজো বাজারে জেএসএসকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর ১০ অক্টোবর বিবৃতি দিয়ে ১১ অক্টোবর থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডেকে ১২ ঘণ্টা পালনের পর চারটি দাবি তুলে ৪৮ ঘণ্টার জন্য তা প্রত্যাহার ও আল্টিমেটাম দেয় ইউপিডিএফ। জেএসএসকে সাজেক থেকে সরানোর দাবি জানালেও ইউপিডিএফ নিজেরাও সাজেকসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে চরম সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের মন্দিরা ছড়ায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর মধ্যকার গোলাগুলিতে সাত বছরের কষ্মিতা চাকমা নামের এক শিশু হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ১১ অক্টোবর সাজেকে সড়ক অবরোধ করে পর্যটকদের ২ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটলে, পুরো পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন একই দিন রাতে (১১ অক্টোবর) সাজেক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং ১৩ অক্টোবরের মধ্যে অবস্থানরত সকল পর্যটককে সাজেক ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়।

খাগড়াছড়ি ব্রিগেড কমান্ডার জানিয়েছেন, সাজেক সড়কে অবস্থান নিয়ে যারা অবরোধ করেছে তারা আসলে নিরীহ মানুষ। তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার ভয় দেখিয়ে অবরোধ পালন করতে বাধ্য করেছে সন্ত্রাসীরা। ব্রিগেড কমান্ডারের এই বক্তব্য এবং স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে চলা গোলাগুলি ও নাশকতায় সেখানকার পাহাড়ি জনগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইউপিডিএফ মূলত নিজেদের সন্ত্রাসী আধিপত্য চিরস্থায়ী করতে সাজেক পর্যটন সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

আজ যে সাজেক জাতীয়ভাবে এক পরিচিত নাম, সেখানে যদি পর্যটকদের আগমন বন্ধ হয়ে যায়, তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। পর্যটন বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় মানুষের আয়ের প্রধান পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়াও সাজেক ভ্রমণ বন্ধ হলে দেশের মানুষও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারে।

ইউপিডিএফের মূল উদ্দেশ্য ও তাদের ধোঁকাবাজি পাহাড়ি জনগণকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে। ইউপিডিএফের চাপ, প্ররোচনা বা আহ্বানে পড়ে সাজেক পর্যটন এলাকায় ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সড়ক অবরোধ কিংবা নাশকতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। ইউপিডিএফের এমন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে সচেতন মহল থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই সার্বিক পরিস্থিতিতে সাজেকের শান্তি ও স্থায়ী নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে সেখানে একটি কার্যকর সেনা অভিযানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *