প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগ, দুল্যাতলীতে প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ

প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগ, দুল্যাতলীতে প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ

প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগ, দুল্যাতলীতে প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

রোগ প্রতিরোধ, উন্নত পরিচর্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে সেনাবাহিনীর এ কর্মসূচি

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার প্রান্তিক খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধ এবং আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করতে প্রশিক্ষণ ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের লক্ষীছড়ি জোন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের পশু-পাখি পালনে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্পে এ প্রাণিসম্পদবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুল্যাতলী ইউনিয়নের ১৫ জন প্রান্তিক খামারি অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন লক্ষীছড়ি জোনের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর নাহিয়ান ইমতিয়াজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুল্যাতলী আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহাথির, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শফিউল ইসলাম এবং দুল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলন চাকমা।

প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগ, দুল্যাতলীতে প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণে গবাদিপশু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও শূকর পালনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পশু-পাখির সাধারণ রোগ শনাক্তকরণ, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, কৃমিনাশক ওষুধের সঠিক ব্যবহার, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থ প্রাণীর প্রাথমিক পরিচর্যা সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পশু-পাখির ওষুধও বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং সঠিক খাদ্য ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে না পারা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পশুচিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় স্থানীয় খামারিদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া তাঁদের দৈনন্দিন খামার পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিরা পশু-পাখির রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। নিয়মিত টিকাদান, কৃমিনাশক ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পশু-পাখির স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুহার ও চিকিৎসাব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, যা প্রান্তিক খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পার্বত্য এলাকার অনেক পরিবার কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের জন্য প্রাণিসম্পদ শুধু পরিবারের পুষ্টির উৎস নয়, বরং নিয়মিত ও অতিরিক্ত আয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পরিকল্পিতভাবে পশু-পাখি পালন, রোগ প্রতিরোধ এবং পরিচর্যার উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারলে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে প্রাণিজ পণ্য বিক্রি করে আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

প্রান্তিক খামারিদের স্বাবলম্বী করতে লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগ, দুল্যাতলীতে প্রাণিসম্পদ প্রশিক্ষণ

এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণকে একই কর্মসূচির আওতায় আনার ফলে খামারিরা একদিকে যেমন ব্যবহারিক জ্ঞান পেয়েছেন, অন্যদিকে প্রাথমিক পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও হাতে পেয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রাণিসম্পদ পালন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র খামারগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক কর্মসূচি পরিচালনা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, লক্ষীছড়ি জোনের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রান্তিক খামারিদের প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলা এবং তাঁদের জীবিকার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, প্রয়োজনে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া এবং খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ের প্রান্তিক পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে আরও কার্যকর সুফল পাওয়া সম্ভব।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed