এশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ মেথ জব্দ, উৎপাদনের কেন্দ্র মিয়ানমার

এশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ মেথ জব্দ, উৎপাদনের কেন্দ্র মিয়ানমার

এশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ মেথ জব্দ, উৎপাদনের কেন্দ্র মিয়ানমার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মেথামফেটামিনের (মেথ) বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মেথ হলো এক ধরনের অত্যন্ত আসক্তিকর ও ক্ষতিকর মাদক। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে।

মিয়ানমারে তৈরি কম দামের মাদকদ্রব্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর সবচেয়ে বড় বাজারে পরিণত হয়েছে থাইল্যান্ড। একই সঙ্গে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও উন্নত দেশগুলোতে বাড়ছে মাদক পাচার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ৩৪৯ মেট্রিক টন মেথ জব্দ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এটি ৪৮ শতাংশ বেশি। এক দশক আগের তুলনায় এটি পাঁচ গুণেরও বেশি।

গবেষক সায়ামল চারোয়েনরাতানার মতে, থাইল্যান্ডে মেথ এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনেও এই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। গত ১০ বছরে দেশটিতে মেথ ট্যাবলেটের দাম অনেক কমেছে এবং বর্তমানে বেশ সস্তা। বর্তমানে প্রতি ট্যাবলেটের দাম সে দেশের মূদ্রায় মাত্র ৩০ বাথ, যা আগের দামের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে মেথ জব্দের পরিমাণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় তা প্রায় চার গুণ, ফিলিপাইনে প্রায় তিন গুণ এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওসের সীমান্তবর্তী গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে মাদক কারবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র কেনার অর্থ জোগাড় করার প্রয়োজনে এই মাদক কারবারের ওপর নির্ভর করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেথ তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের বড় সরবরাহকারী চীন ও ভারত। চীন এই রাসায়নিকের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে কিন্তু অপরাধী চক্র বিকল্প রাসায়নিক ব্যবহার করে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।

উন্নত দেশগুলোতেও বাড়ছে মাদক পাচার। জাপানে ২০২৫ সালে বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে উদ্দীপক মাদক পাচারের ৭৩টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। জব্দের পরিমাণও ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৬৬৪ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্ত পেরিয়ে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হলে মেথ ভবিষ্যতে বড় আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *