মাইনীমুখ বাজারে ফায়ার লাইন দখলের অভিযোগ, অগ্নিঝুঁকিতে হাজারো ব্যবসায়ী

মাইনীমুখ বাজারে ফায়ার লাইন দখলের অভিযোগ, অগ্নিঝুঁকিতে হাজারো ব্যবসায়ী

মাইনীমুখ বাজারে ফায়ার লাইন দখলের অভিযোগ, অগ্নিঝুঁকিতে হাজারো ব্যবসায়ী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাইনীমুখ বাজারে ফায়ার লাইন ও বাজার ফান্ডের সংরক্ষিত জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালীদের দখলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য নির্ধারিত জায়গা ও চলাচলের গলি সংকুচিত হয়ে পড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন বাজারের হাজারো ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণের কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাঙামাটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত মাইনীমুখ বাজারটি জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি গরু-ছাগল, বাঁশ, কাঠ, আদা, হলুদ, আখ ও জাম্বুরাসহ নানা পণ্যের সমারোহ ঘটে এ বাজারে। প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের সমাগম হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাজার ফান্ডের জায়গা ও অগ্নিনির্বাপণের জন্য নির্ধারিত ফায়ার লাইন দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন দখলদার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাজার ফান্ড প্রশাসকের প্রতিনিধি ও বাজার চৌধুরী দেব কুমার চাকমা জানান, বাজার ফান্ডের আওতায় মোট ২৫টি ফায়ার লাইন ছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো বেদখল হয়ে গেছে। বাজার ফান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এসব ফায়ার লাইন উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম মেম্বার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের কথা রয়েছে।

বাজারটিতে অতীতেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে ফায়ার লাইন ও প্রশস্ত গলির অভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

লংগদু ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, মাইনীমুখ বাজারে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পর্যাপ্ত ফায়ার লাইন ও প্রশস্ত গলি না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সমস্যা হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, ফায়ার লাইন ও গলি দখলমুক্ত করা গেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল এবং পণ্য ওঠানামার ভোগান্তিও কমবে।

মাইনীমুখ বাজারের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, অগ্নিঝুঁকি কমানো এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বেদখল হয়ে যাওয়া ফায়ার লাইন, গলি ও অবৈধ স্থাপনা উদ্ধারে বাজার ফান্ড প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *