মাটিরাঙ্গায় পূজা-পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন’

মাটিরাঙ্গায় পূজা-পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন’

মাটিরাঙ্গায় পূজা-পরবর্তী বর্জ্য অপসারণে ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন’
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ঢাকের বাদ্য থেমেছে, প্রতিমা বিসর্জনও শেষ। মণ্ডপের রঙিন সাজ খুলে নেওয়ার পর পড়ে থাকে প্লাস্টিকের মোড়ক, ফুলের পরিত্যক্ত মালা, আর নানা আবর্জনার স্তূপ। উৎসবের আনন্দের এই উচ্ছিষ্ট সামলানোর দায় সাধারণত কেউ নিতে চায় না।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ঠিক সেই দায়িত্বটাই কাঁধে তুলে নিয়েছে একদল তরুণ-তরুণী।

মাস্ক-গ্লাভস পরে মাঠে স্বেচ্ছাসেবকরা

শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হতে না হতেই বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামে পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সংগঠন ‘ইউথ অরিজিন ফাউন্ডেশন, ক্লিন হিলস গ্রিন ফিউচার’।

মাস্ক ও গ্লাভস পরে স্বেচ্ছাসেবকরা উৎসব-পরবর্তী জমে থাকা বর্জ্য, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহ করেন। ‘ক্লিননেস ক্যাম্পেইন’ নামের এই কর্মসূচি পরিচালিত হয় মাটিরাঙ্গার ব্যাঙ্গমারা, নতুন পাড়া, কালী মন্দির, ও বলিটিলা পূজা মণ্ডপে সংগৃহীত বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়, আর কিছু অপচনশীল বর্জ্য নিরাপদ উপায়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

উৎসবের পর পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য পাহাড়ি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য ছড়া ও ঝিরিতে গিয়ে পড়ে, যা পাহাড়ের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। পাহাড়ি জনপদে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগও সীমিত। তাই স্বেচ্ছাসেবীদের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৩ সালে সীমিত পরিসরে সংগঠন টি আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব ত্রিপুরা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন উপদেষ্টা ভাসুরি ত্রিপুরা, সদস্য কর্ণজ্যোতি ত্রিপুরা এবং নির্বাহী সদস্য বেবি মারমা, টুটুল ত্রিপুরা, অনিতা ত্রিপুরা ও রতন মণিসহ আরও অনেকে।

প্রায় ২০ জন নিবেদিতপ্রাণ ভলান্টিয়ার নিয়ে গড়া এই সংগঠন নিয়মিত পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নানা মানবিক ও সামাজিক কাজেও যুক্ত। ত্রিপুরা ও মারমাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর তরুণদের এই অংশগ্রহণ পাহাড়ের সম্প্রীতির একটি সুন্দর উদাহরণও বটে।

উৎসবের আনন্দ শেষে প্রকৃতিকে তার আগের রুপে ফিরিয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব ত্রিপুরা বলেন,“উৎসবের আনন্দ সবাই ভাগ করে নেয়, কিন্তু উৎসবের পর জমে থাকা বর্জ্য পাহাড়ের প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তাই আমরা তরুণরা এগিয়ে এসেছি। আমরা চাই পাহাড় পরিচ্ছন্ন থাকুক, আগামী প্রজন্ম একটি সবুজ পাহাড় পাক। সবাই সচেতন হলে এ কাজ আরও সহজ হবে।”

তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ গড়তে অনুপ্রাণিত করছে।

সংগঠনের নামেই লুকিয়ে আছে তাদের স্বপ্ন: ‘ক্লিন হিলস, গ্রিন ফিউচার’। পরিচ্ছন্ন পাহাড়ই হোক সবুজ আগামীর ভিত্তি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *