দীঘিনালা বন বিহারে দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু, সম্প্রীতির বার্তা সেনাবাহিনীর
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আয়োজন দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার দীঘিনালা বন বিহারে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা বন বিহারের প্রধান ভান্তে নন্দ ভান্তে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর তৌকির আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
এ সময় দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর তৌকির আহমেদ উপজেলার সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় থাকলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে কঠিন চীবর দান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর বা পরিধেয় বস্ত্র দানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। দান, শীল ও ভাবনার চর্চার পাশাপাশি এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৈত্রী, অহিংসা, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে দায়ক-দায়িকারা এ উৎসবে অংশ নিয়ে ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশে চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী উৎসর্গ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন উপলক্ষে দীঘিনালা বন বিহারে ধর্মীয় প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ ও জাতির মঙ্গল, শান্তি এবং সব প্রাণীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
কঠিন চীবর দান উৎসবকে কেন্দ্র করে দীঘিনালা বন বিহার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।