পুরোনো ভিডিও বিকৃতভাবে প্রচার করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, সতর্ক থাকার আহ্বান

পুরোনো ভিডিও বিকৃতভাবে প্রচার করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, সতর্ক থাকার আহ্বান

পুরোনো ভিডিও বিকৃতভাবে প্রচার করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, সতর্ক থাকার আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

এক বছরেরও বেশি সময় আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি। ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না; সেখানে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ধরনের পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হতে এবং তথ্য যাচাই করে প্রচার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।

বিজিবির এক বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও…..’ শিরোনামে এক বছরেরও বেশি আগের একটি ভিডিও পুনরায় প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিজিবির ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে মনে করছে বাহিনীটি।

বিজিবি জানায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের থানচি উপজেলার বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য। অথচ ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আংশিক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে প্রচার করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর কাছাকাছি এলাকা দিয়ে আরাকান আর্মির একটি দল সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে দলটিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

বিজিবির দাবি, ওই পরিস্থিতিতে তারা তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও প্রচারিত হয়েছিল।

বিজিবি আরও বলেছে, এক বছরেরও বেশি আগের ঘটনাকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচয় পরিবর্তন করে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে বিজিবির গৃহীত পদক্ষেপের প্রকৃত তথ্য আড়াল করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিওটি প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থী।

বাহিনীটির মতে, পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও নতুন করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট স্বার্থ বা উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজিবি।

বক্তব্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেছে বিজিবি। বাহিনীটি জানায়, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অস্থিতিশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে মিয়ানমারের নিয়মিত সরকারি বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবাধীন। পাশাপাশি খুমি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিজিবির ভাষ্য, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র ইউনিফর্ম না থাকায় তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার এবং সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এমন জটিল ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা কাম্য নয়। ভবিষ্যতেও যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *