পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক সড়কে চলছে ইউপিডিএফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, জনদুর্ভোগ চরমে
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। অবরোধের কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অবরোধের তৃতীয় দিনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফের মদদপুষ্ট সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চতুর্থ দফায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ অন্যান্য দাবি। তবে অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে বড় ধরনের কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
এর আগে, গত ২২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিন সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।

এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী কোনো বৈঠকের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে অমীমাংসিত দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সমঝোতা না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দাবিতে প্রথম দফায় ১১ অক্টোবর, দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর এবং তৃতীয় দফায় ২২ অক্টোবর অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। চারটি দাবিতে সমঝোতা হলেও সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর জেরে চতুর্থ দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাজেকের সঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরসহ অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, পণ্য পরিবহন, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও পর্যটন কার্যক্রমে ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত দাবির সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।