পাহাড়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেলো ৪৭৫ দুঃস্থ পরিবার - Southeast Asia Journal

পাহাড়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেলো ৪৭৫ দুঃস্থ পরিবার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে ঘর পেলো ৪৭৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। আজ শনিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মাঝে ভূমির দলিল ও ঘরের চাবি প্রদান করেন স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসন।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন শেষে সদর উপজেলায় প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৫টি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ভূমির দলিল ও চাবি তুলে দেন সংসদ সদস্য। এছাড়াও একইসাথে জেলার দিঘীনালায় ৩০টি, মহালছড়িতে ১৫টি, মাটিরাঙায় ২৬টি, পানছড়িতে ৫৫টি, রামগড়ে ২২টি, গুইমারায় ১০টি, মানিকছড়িতে ৫৫টি ও লক্ষীছড়িতে ২০টিসহ ২৩৩টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে চাবি হস্তান্তর করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে রাঙামাটি জেলায় ২৬৮ টি গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শেষে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার শনিবার (২৩ জানুয়ারী) রাঙামাটি কুমার সমিত রায় মিলনায়তনে রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬০টি পরিবারের হাতে এই চাবি তুলে দেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাঙামাটি সদর উপজেলার লক্ষী চাকমা, আনন্দ চাকমা ও ললিত চাকমা’র হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরের চাবি তুলে দেন খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।

অন্যদিকে, বান্দরবানে প্রথম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল ৩৩৯টি ঘর ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীনদের মধ্যে এ ঘরগুলোর হস্তান্তর প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বান্দরবান জেলা প্রশাসক এর সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি,বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: জিয়াউল হক। জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুর রহমান, নাইক্ষংছড়ি উপজেলা নিবাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি” সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার তৌছিফ আহমেদ, এছাড়া থানছি, লামা,আলীকদম রুমা ও রোযাংছড়ি উপজেলা নিবাহী অফিসারসহ সরকারি বেসরকারী উর্ধতন কর্মকর্তা এবং ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩শত ৩৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান উপলক্ষে গৃহ হস্তান্তরের সনদপত্র হাতে তুলে দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় , বান্দরবানের সাত উপজেলায় ৬হাজার ৮শত ৬৭ জন গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে ২হাজার ১শত ৩৪টি বাড়ী তৈরির কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তৈরি ৩শত ৩৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া শেষে পর্যায়ক্রমে বাকীদের গৃহ হস্তান্তরের সনদপত্র প্রদান করা হবে।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য এলাকায় যে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরে এই এলাকার শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সকলের চোঁখে পড়বে এবং পার্বত্যবাসী সরকারের এই সুফল ভোগ করছে এবং করে যাবে। দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের ভাগ্যন্নোয়নের জন্যও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ তারই প্রমাণ। সবাইকে সমানতালে এগিয়ে নিতে দূরদর্শী চিন্তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই করতে পারেন বলেও অভিমত অতিথিদের।