জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট ভারতের, বাংলাদেশ বিরত - Southeast Asia Journal

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট ভারতের, বাংলাদেশ বিরত

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিল ভারত। আর বাংলাদেশ এই ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল।

ভোটাভুটি হয়েছে এই প্রশ্নে যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একটি নিন্দা প্রস্তাবের ওপর গোপন ভোটাভুটি হবে কি না। ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রুশ ফেডারেশনে যুক্ত করার নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাবটি আনা হয়েছে আলবেনিয়ার উদ্যোগে। এটির ওপর গোপন ভোটাভুটি চেয়েছিল রাশিয়া।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গোপন ভোটাভুটি হবে কি না, সেই প্রশ্নে গত সোমবার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩টি দেশ। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারতসহ ১০৭টি দেশ। বিরত ছিল রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশসহ ৩৯টি দেশ।

সম্প্রতি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, খেরসন, লুহানস্ক ও জাপোরিঝঝিয়াতে গণভোটের মধ্য দিয়ে এগুলোকে রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত করে মস্কো। এ গণভোট ও অন্তর্ভুক্তিকরণকে অবৈধ উল্লেখ করে আলবেনিয়ার উদ্যোগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা নিন্দা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা গত রাতে। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খসড়া ওই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির আগে বিতর্ক চলছিল।

এদিকে ইউক্রেনে গত সোম ও মঙ্গলবার ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে এর মধ্যেও নিজেদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। গতকাল বুধবার দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বাহিনী খেরসন অঞ্চলের পাঁচটি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এককাট্টা হচ্ছে ইউক্রেনের মিত্র হিসেবে পরিচিত ‘ইউক্রেন ডিফেন্স কন্ট্যাক্ট গ্রুপ’। এই জোটের ৫০টি দেশ ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগকারী কার্চ সেতুতে গত শনিবার বিস্ফোরণ হয়। এরপর গত সোম ও মঙ্গলবার ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায় রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ হামলার বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য গতকাল প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। এতে বলা হয়েছে, দুই দিনে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

হামলায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর ক্ষতি তুলে ধরে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো বলেন, এই দুই দিনের হামলায় ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গতকাল বুধবারও ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। দোনেৎস্কের আভদিভকায় একটি বাজারে চালানো হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন। এ হামলা প্রসঙ্গে সেখানকার গভর্নর পাভলো কিরিলেনকো বলেন, এই হামলার কোনো যুক্তি নেই।

রাশিয়ার বাহিনী গত তিন দিনে মূলত বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখে মনে হচ্ছে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারছে না। আসলে তারা হারছে।

আরও অস্ত্র পাবে ইউক্রেন
ইউক্রেনে টানা তিন দিনের হামলার মধ্য দিয়ে আকাশসীমা সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। মঙ্গলবার ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর বৈঠকেও বিষয়টি সামনে এনেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর মঙ্গলবারই জার্মানির কাছ থেকে চারটি আইআরআইএস-টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেয়েছে ইউক্রেন। এ ছাড়া শিগগিরই এনএএসএএমএস নামের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার বিষয়টি নিয়ে গতকাল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে ‘ইউক্রেন ডিফেন্স কন্ট্যাক্ট গ্রুপের’ ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এ বৈঠকে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা ও বিদ্বেষ সামনে এসেছে। এ যুদ্ধে জয়ের দাবিদার ইউক্রেনের সাহসী বাহিনী।

বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁরা কী চান। এর জবাবে তিনি শুধু তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেছেন। আর তা হলো, ‘আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’।

পুতিনের নিন্দা বাইডেনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনায় নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল হিসাব-নিকাশ করেছেন। এ ছাড়া পুতিন যুদ্ধাপরাধ করেছেন, পাশবিক আচরণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন আরও বলেন, নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখেন না।