রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ - Southeast Asia Journal

রোহিঙ্গাদের ভোটার করায় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সরকারের এতো কঠোর নির্দেশনার পরও রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে নতুন আসা রোহিঙ্গারা তো আছেই, সেই সাথে কয়েক দশক আগে থেকে আসা রোহিঙ্গারা খুব সহজেই এখন এনআইডি করিয়ে নিচ্ছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মদের। যেখানে কোনো কাজেই আসছেনা সরকারের কঠোর সতর্কতা।

সম্প্রতি জানা যায়,কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নে রোহিঙ্গা ভোটার হওয়ার তথ্য। দেখা গেছে সেখানে প্রায় ৩০ টিরও অধিক জাতীয় পরিচয় পত্র করানো হয়, যারা রোহিঙ্গা। ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর শিয়া পাড়া গ্রামে বাস করা আব্দুল মাবুদ নামের এক ব্যক্তি, যে রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতই আছে গ্রামে। তার চার সন্তান ইতোমধ্যে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়েছেন। এমনকি এদের মধ্যে একজন বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন।

ধরা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নে এমন অনেকেই আছে যারা এসে বসতি গড়েছেন এবং অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয় পত্র করিয়ে নিয়েছেন। যেখানে জড়িত জনপ্রতিনিধিরাও। যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম একপর্যায়ে সংবাদ কর্মীদের কাছে স্বীকার করেন নিজের ইউনিয়নে ওই অভিযুক্তদের জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়ার কথা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহিদ ইকবাল জানান, অভিযোগ হাতে এসেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।কক্সবাজারে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয় পত্র করিয়ে দেয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় বাড়ছে এসব অভিযোগের ফিরিস্তি।

এদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের সচেতন দুই ব্যক্তি বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে বিবাদী করা হয়েছে ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিয়াউল হক, ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল হাকিমকে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় চেয়ারম্যান মেম্বাররা পরষ্পর যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অভিযোগে বিগত ৬ বছরে ৩৮ জন চিহ্নিত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী এনআইডি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে বাদীরা।

সচেতন মহল চিহ্নিত রোহিঙ্গাদের এনআইডি বাতিলসহ অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।