সুদানে বাড়ছে অনাহারে মৃতের সংখ্যা- জাতিসংঘ - Southeast Asia Journal

সুদানে বাড়ছে অনাহারে মৃতের সংখ্যা- জাতিসংঘ

সুদানে বাড়ছে অনাহারে মৃতের সংখ্যা- জাতিসংঘ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সুদানে অনাহারে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা।

সংস্থাটির মতে, যুদ্ধের কারণে সুদানের বেসামরিক নাগরিকরা সহায়তা পাচ্ছেন না। আর এই কারণে গত বছরের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) সুদানের প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এডি রো বলেন, “সুদানের পরিস্থিতি আজ শুধুই বিপর্যয়কর কিছু নয়। লাখ লাখ মানুষ সংঘাতের প্রভাবে পড়েছে। সুদানের ডব্লিউএফপির কাছে খাবার আছে। তবে মানবিক প্রবেশাধিকারের অভাব। অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা কার্যক্রমকে ধীর করে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জীবন রক্ষাকারী সহায়তা যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আমরা ইতিমধ্যেই অনাহারে মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।”

এপ্রিল মাসে সুদানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। আর অতিরিক্ত সংঘাতের এলাকায় থাকা পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ জরুরি স্তরের ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি সুদানের যুদ্ধরত পক্ষ সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) ত্রাণ সরবরাহে নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ডব্লিউএফপি সুদানের যোগাযোগের প্রধান লেনি কিনজলি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে আল জাজিরাকে বলেন, “লোকেরা সত্যিই প্রতিদিন মৌলিক খাবারের সামর্থ্যের জন্য সংগ্রাম করছে। যারা সর্বোচ্চ মাত্রার ক্ষুধা অনুভব করছেন, তারা সবকিছু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “আসলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। অবাধে পণ্য পরিবহনের অনুমোদন পাচ্ছি না।”

সুদানের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সীমিত সাহায্য বিতরণ

সুদানের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজনকে সহায়তা দিতে পারছে ডব্লিউএফপি। এরমধ্যে খার্তুম, দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং এল গেজিরা রাজ্যের অবস্থা আরও শোচনীয়।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি সুদানে সাহায্য বিতরণ সীমিত ছিল। পোর্ট সুদানে ৭০টি ট্রাক দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। আরও ৩১টি এল ওবেইদে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে ছিল। দুটি শহরই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত।

লেনি কিনজলি বলেন, “সুদানের বন্দর থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইলে প্রত্যেক ট্রাকের জন্য বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্ট্যাম্প এবং স্বাক্ষর পেতে হয়। এই ছাড়পত্র মঞ্জুর করতে সময় লাগে।”

তিনি বলেন, “সুদানের জনগণের কাছে খাবার সরবরাহ করার জন্য আমাদের প্রতিটি ট্রাককে প্রতিদিন রাস্তায় থাকতে দিতে হবে।”

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় সুদানে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

জাতিসংঘ বলেছে, “নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে বাধ্য হয়েছে।”

সুদানে যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার প্রচেষ্টা এখনও একটি অগ্রগতি অর্জন করেনি।

  • আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।