রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামে আবার নিপীড়ন, উদ্বাস্তু ২ লাখ

রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামে আবার নিপীড়ন, উদ্বাস্তু ২ লাখ

রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামে আবার নিপীড়ন, উদ্বাস্তু ২ লাখ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে রোহিঙ্গা গ্রামে ব্যাপক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে দুই লাখ নির্যাতিত সংখ্যালঘু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা সেখানে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন। অন্যদিকে রাখাইনে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক নৃশংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে আসছে। এ ঘটনাকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাসহ অনেকেই গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন। গত নভেম্বরে মিয়ানমারের জান্তার সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই রাখাইন রাজ্য উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মি বলছে, তারা স্থানীয় রাখাইনদের আরও স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের ওই রাজ্যে প্রায় ছয় লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমের বসবাস। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে জাতিগত হত্যার মামলা চলছে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি অধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, রাখাইন রাজ্যের বুথিডাং শহর থেকে গত সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হতে বাধ্য করেছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। শহরটির বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বুথিডাং শহর থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, আরাকান আর্মির যোদ্ধারা রোহিঙ্গাদের জোর করে উদ্বাস্তু করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

গত সপ্তাহে রাখাইনের বুথিডাং শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আরাকান আর্মি। তাদের মতে, এটা মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে সংগঠনের বিজয়ের সর্বশেষ নজির। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, বাসিন্দাদের শহর ছাড়তে সতর্ক করা হয়েছিল। তাদের আরাকান আর্মি অধ্যুষিত নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সহায়তাও করা হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইনের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। তাই সেখান থেকে তথ্য পাওয়া এখন বেশ কঠিন। খবর এএফপি ও সিএনএনের।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।