উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকারিতা

উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকারিতা

উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকারিতা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

পারভেজ হায়দার

বৃটিশ ঔপনিবেশিক সরকার প্রবর্তিত ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন”কে ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে মনে করা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রামের উপর  পূর্ণ ও সহজ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই রেগুলেশনের  প্রবর্তন ঘটালেও পাহাড়ি সামন্ততান্ত্রিক নেতৃবৃন্দের কাছে  বিষয়টি সম্মানের ও গর্বের।  এই রেগুলেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের সার্কেল প্রধান তথা রাজাদের শুধুমাত্র খাজনা আদায়কারীর ভূমিকায় অবতীর্ন করে তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার যে বিধিবদ্ধ পদ্ধতির প্রবর্তন করেছিল, নিজেদের সম্প্রদায়ের মর্যাদাকে অবমূল্যায়ন করে তারা (উপজাতি নেতৃবৃন্দ) ঐ রেগুলেশনের উপর ভিত্তি করেই এখনো পর্যন্ত তাদের অধিকার আদায়ের দাবি চলমান রেখেছেন।  ১৯০০ সালের রেগুলেশনে জেলা প্রশাসককে (ডেপুটি কমিশনার) সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যা ইতিপূর্বে ১৮৮৪ সালে তিনটি অংশে বিভক্ত করা সার্কেল সমূহের চিফগণদের তাকে (ডেপুটি কমিশনার) সহযোগীতা করার নির্দেশনা ছিল। ডেপুটি কমিশনারের উপদেষ্টা হিসেবে খাজনা আদায়ে সহযোগিতা করাই ছিল মূলত সার্কেল চীফগণের কাজ। সার্কেল চীফগন হেডম্যান-কারবারিদের মাধ্যমে সাধারন জনগণের কাছ থেকে খাজনা আদায় করে একটা অংশ  নিজেদের কাছে রেখে বাকি সমুদয় আদায়কৃত অর্থ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের নির্ধারিত তহবিলে জমা করতো, যা ছিল ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের স্বল্পসংখ্যক জনবলের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য যে নীতি গ্রহন করা হয়েছিল তা ঐ অঞ্চলের অন্যতম ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন থমাস হর্বার্ট লেইউনের একটি মন্তব্য থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়,

…. Let us not govern this hills for ourselves, but administer the country for the well-being and happiness of the people dwelling therein. Civilization is the result and not the cause of civilization. What is wanted here is not measures but a man. Place over them an officer gifted with the power of rules; not a more cog in the great wheel of Government, but one tolerant of the failings of his fellow-creations, and yet promt to see and recognize in them the touch of nature that makes the whole world kin; apt to enter into new trains of thought and to modify and adopt ideas, but cautious in offending national prejudice.

১৯০০ সালের রেগুলেশন সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে এর ঐতিহাসিক পটভূমি এবং পারিপার্শিকতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার প্রাক্কালে পার্বত্য চট্টগ্রামও একই সাম্রাজ্যের অধীনস্ত ছিল। মীর কাসেম আলী খান নবাবী পাওয়ার লোভে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করেন।  পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃটিশদের আগমনের পর থেকেই অধিক হারে খাজনা আদায়ের উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬১ সাল থেকে বারবার রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি ছাড়াও ১৭৭২-৭৩ অর্থবছর হতে নগদ অর্থে খাজনা পরিশোধ করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের বাধ্য করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মত অনগ্রসর অঞ্চলেও মুদ্রা অর্থনীতির চালু করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সবসময় সচেষ্ট ছিল। ইতিপূর্বে রাজস্ব প্রদানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের অংশ আদান-প্রদান করতে বিনিময় প্রথার প্রচলন ছিল। ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজস্বের হার আরও বৃদ্ধি করা হলে চাকমারা বিদ্রোহের  পথ বেছে নেয়।  ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড হেস্টিংস’র ১৯৭৭ সালের একটি বর্ণনাতে চাকমাদের সাথে ব্রিটিশদের সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় বিশ্লেষনের দাবি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন অধিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমতল ভূমির বাঙ্গালীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে সমতল অঞ্চলে বিক্রি করত। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে  প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার ঘনফুট কাঠ সমতল ভূমিতে নিয়ে বিক্রি করা হতো। চাকমাদের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চাকমাদের সমতলভূমিতে ব্যবসার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে চাকমারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকানাধীন লবণ তৈরির কারখানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে সংগ্রহকৃত জ্বালানি কাঠ সরবরাহে বাধা সৃষ্টি শুরু করে।  এধরনের দ্বিপাক্ষীয় বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিরোধের পাশাপাশি গেরিলাযুদ্ধ ১০ বছর স্থায়ী হওয়ার পর ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে চাকমা রাজা জান বকস্ খানের  শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। ব্রিটিশদের সাথে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের অন্যতম বিষয় ছিল অনেকটা বশ্যতা স্বীকার করে নেওয়া। ফলশ্রুতিতে তখন থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ব্যাপকহারে তুলা উৎপাদন করে ব্রিটিশদের কাছে প্রেরণ করতে বাধ্য করা হতো।

১৮৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসানের পর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নীতি-নির্ধারকদের কাছে আরো বৃদ্ধি পায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলা ও কাঠ আহরণ করে তা থেকে ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্প, ভারতবর্ষে স্থাপিত রেলওয়ে স্লিপার এবং রয়েল নেভির জাহাজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠের যোগান দেওয়া হতো। এসব সামগ্রী গন্তব্যে পাঠানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচুর তুলা উৎপাদনের জন্য ব্রিটিশদের কাছে এই অঞ্চল “কার্পাস মহল” নামে পরিচিতি লাভ করে।এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এনে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলকে একটি প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহন করে।  ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম থেকে বিভক্ত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি প্রশাসনিক জেলায় পরিণত করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরো সুদৃঢ় ও বেগবান করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ব্রিটিশরা এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঐ সময় সমতলের বাঙ্গালীদেরকে এই এলাকায় বসতি স্থাপনে উৎসাহিত করতে থাকে। ব্রিটিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাঙালি ব্যবসায়ী ও মহাজনরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে থাকেন।  তুলা ও কাঠ আহরনের কাজের জন্য সমতল এলাকা থেকে এ অঞ্চলে বাঙ্গালীদের প্রবেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হারে বাড়তে থাকে। এছাড়া উপজাতি গোত্র প্রধানগণ রাজস্ব সংগ্রহের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের নিয়োগ দিতেন। চাকমা রানী কালিন্দি রায়ও রাজস্ব সংগ্রহে বাঙ্গালীদের তার উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করতেন। রানী ঐ সময় চিরাচরিত চাকমা ঐতিহ্য ভঙ্গ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস না করে বছরের অধিকাংশ সময়ে কলকাতায় বসবাস করতেন। তাছাড়া কথিত আছে রানী কালিন্দি তার স্বগোত্রীয় লোকজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন না।  তিনি প্রশাসনিক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাঙ্গালী উপদেষ্টাদের সাথে বেশি পরামর্শ করতেন। তার উপদেষ্টা পরিষদে বেশ কয়েকজন চাকমা সদস্য থাকলেও  রানী কালিন্দি মূলত বাঙ্গালীদের উপর বেশি নির্ভর করতেন। উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে তিনি তার বেশ কয়েকটি জমির তালুক বাঙালিদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। সার্বিক বিষয়ে তৎকালীন সময়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী রানী কালিন্দীর উপর ক্ষুব্ধ ছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদচারনার এক পর্যায়ে বৃটিশরা অনুধাবন করতে পারে যে, পাহাড়ের চিরাচরিত সনাতন পদ্ধতির জুম চাষের ফলে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের অনিয়ম হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ব্রিটিশ সরকার সহজ শর্তে বাঙ্গালীদের বসতি স্থাপন পুনরায় উৎসাহিত করে। বাঙালিরা লাঙ্গল দিয়ে কৃষি কাজ করতো এবং এর রাজস্ব ব্রিটিশ সরকার ঠিক ভাবে পেতো। তাই ১৮৬৮-১৮৭২ সাল পর্যন্ত প্রচুর জমি লাঙ্গল চাষের আওতায় এনে বন্দোবস্তী দেওয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় পাহাড়ীদেরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ডেপুটি কমিশনারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি হেডম্যানগন গ্রহণ করতেন এবং প্রতি পাহাড়ি লাঙ্গল চাষীদের ২৫ একর পর্যন্ত জমির বন্দোবস্তি দেওয়া হতো। পাহাড়ী জুম চাষীদের লাঙ্গল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ব্রিটিশ সরকার ১৮৭২ সালে ৩৮ হাজার ১০০ পাউন্ড খরচ করে বলে কথিত আছে।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার সবসময় তাদের অর্থনৈতিক মুনাফার বিষয়টি বিবেচনা করে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। তাদের এই অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে যে সকল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো, তা’ সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময়ে তারা কার্যকরী ব্যবস্থাও গ্রহণ করত। তৎকালীন সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী লুসাই এবং নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এলাকার লোকজন প্রায়শই লুটতরাজ চালাতো যা’ ব্রিটিশ প্রশাসনিক কর্মকান্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি হতো। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে ব্রিটিশরা প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত নিয়ন্ত্রন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়। তারই অংশ হিসেবে  ১৮৬৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একজন ডেপুটি কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হয়; যার উপর এই অঞ্চলের রাজস্ব সহ সকল গুরুত্বপূর্ন বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৮৭১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে  District Forest (DF) রূপে মূল্যায়ন করা হয়। ঐ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল সমূহকে ৩টি ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রথমত  Reserve Forest (RF), যা ফরেষ্ট ডিপার্টমেন্টের  (DoF) নিয়ন্ত্রনাধীন ছিল, দ্বিতীয়ত  Protected Forest (PF),  যা  DoF এর অনুকূলে থাকলেও ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো এবং তৃতীয়ত Unclassed State Forest (USF), যা ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।  রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে ১৮৬৯ এর “বেঙ্গল এ্যাক্ট” এবং ১৮৮১ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্ত রক্ষা পুলিশ আইন” এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুলিশি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারকে আইজি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ১৮৭৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ডাক সার্ভিস চালু করা হয়, যা’ ব্রিটিশ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করে। খাজনা আদায়ের বিষয়টি নির্বিঘ্ন ও সহজতর করাই ছিলো বৃটিশদের এ সকল পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

১৮৮৭ সালে পরিবারপ্রতি বার্ষিক ৪ রুপি রাজস্ব কর নির্ধারণ করা হয়। রাজস্ব সংগ্রহের এই অর্থের মধ্যে ১ রুপি হেডম্যান, ২ রুপি সার্কেল চীফ এবং অবশিষ্ট ১ রুপি বৃটিশ কোষাগারে জমা করা হতো। কিন্তু জুম চাষের ফলে চাহিদামত রাজস্ব সঠিকভাবে আদায় না হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার ১৮৯২ সালে জুম চাষের পরিবর্তে লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষের আইন চালু করে, যদিও অনেক পাহাড়ী বিষয়টাকে পছন্দের চোখে দেখেনি। ইতিপূর্বে লাঙ্গল চাষে পারঙ্গম বাঙ্গালীদের বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করার ফলে ১৮৯০ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় তিন হাজার একর জমি লাঙ্গল চাষের আওতায় চলে এসেছিল।  প্রায় একই সময়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অন্যান্য উপজাতি, বিশেষ করে সাঁওতালদেরও লাঙ্গল চাষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ১৮৯৯ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাঁওতাল বস্তি গড়ে ওঠে। বসতি স্থাপনকারী সাঁওতালদের পরিবার প্রতি ৪ একর (১০ কানি) জমিও বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশদের এ সকল পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি স্বার্থপরিপন্থী সিদ্ধান্ত সমূহের কারণে অনেক উপজাতিদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা যায়; বিষয়টি অনুমান করতে পেরে  ব্রিটিশ সরকার তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি পার্বত্য এলাকার উপজাতি জনগণকে সন্তুষ্ট রাখতে সচেষ্ট হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯০০ সালের ‘হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল’ আইন প্রবর্তিত হয়। এই ম্যানুয়েল এর ১ নং ধারা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি  “ব্যাকডেটেড এরিয়া” ঘোষণা করা হয়। ১৯০০ সালের এই রেগুলেশনে উপজাতি জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জীবনধারার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হলেও মূলত রাজস্ব ও বিচার বিভাগীয় সম্পর্কিত বিষয়ের উপরই বেশী জোর দেয়া হয়। পার্বত্য জেলায় নিয়োগকৃত ডেপুটি কমিশনারকে ব্যাপকভাবে ক্ষমতায়ন করা হয় এবং একই সাথে সার্কেল প্রধানদের সম্মানও বৃদ্ধি করা হয়। সার্কেল প্রধানগন তাদের অধিনস্ত মৌজা সমূহ অর্থাৎ চাকমা সার্কেলের ১৭৭ টি মৌজা, বোমাং সার্কেলের ৯৭ টি এবং মং সার্কেলের ১০০ টি মৌজার উপরে অধিক নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন । সার্কেল প্রধানগণ মূলত ডেপুটি কমিশনারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিটি সার্কেলের বিচার-সালিশ সম্পর্কিত দায়িত্ব হেডম্যান-কার্বারীদের হাতে অর্পন করা হতো। হেডম্যানদেরকে সর্বোচ্চ ২৫ রূপি জরিমানা করারও অধিকার দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে পূর্বের তুলনায় কিছুটা অধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত সার্কেল প্রধানগণ, হেডম্যান এবং কার্বারীদের সমন্বয়ে একটি নতুন সামন্ত শ্রেনী গড়ে ওঠে। অন্যদিকে সাধারণ উপজাতিদের সাথে এই সামন্তশ্রেণীর দূরত্ব বাড়তে থাকে।

১৯০০ সালের ১৭ই মে কলকাতায় “হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল” গেজেট প্রকাশিত হয়। গেজেতে এই এলাকাকে একটি “নন রেগুলেটেড” এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই রেগুলেশনের ৫১ নম্বর রুলের আওতায় ডেপুটি কমিশনারকে অত্র অঞ্চলের যেকোন অ-উপজাতি ব্যক্তিবর্গকে বহিষ্কারের ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং ১৮৮১ সালের “চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস ফ্রন্টিয়ার পুলিশ রেগুলেশন” এর মাধ্যমে  মাধ্যমে তা কার্যকর করার বিধান রাখা হয়। ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামের বাহিরের কোন ব্যক্তিবর্গ কোন উপজাতি এলাকায় বসতি স্থাপন করতে পারবে না, এই বিষয়টিও রেগুলেশনে উল্লেখ করা হয়। এই নির্দেশনার অর্থ এই নয় যে, ১৯০০ সালের রেগুলেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে অ-উপজাতিদের বসতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো বরং ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি স্বাপেক্ষে অ-উপজাতিদের বসতি স্থাপন বৈধ ছিল। এই রেগুলেশনের মাধ্যমে বাঙালি  অভিবাসন অথবা ভূমির অধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজন বোধে বিধি-নিষেধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে আরো প্রতীয়মান হয় যে, এই রেগুলেশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ক্রয় এবং বসবাসের জন্য সমতল ভূমির বাঙ্গালীদের অধিকার হ্রাস পায় এবং তাদেরকে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সময়ে ঐ কোন উপজাতি নেতৃবৃন্দ বাঙ্গালীদের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসের ক্ষেত্রে কখনো বিরোধিতা করেনি। এই রেগুলেশনের ৩৪ নম্বর বিধির খ, গ, ঘ ও ঙ নং অনুচ্ছেদে বাঙ্গালীদের বনায়ন, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া হয়। তবে ডেপুটি কমিশনারের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত সমতল ভূমির কোন অ-উপজাতি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ কিংবা বসবাস করতে পারত না।  পরবর্তীতে পাহাড়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধক্রমে ১৯২০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “এক্সক্লুডেড এরিয়া” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৩৫ সালে বৃটিশ সরকার প্রবর্তিত “ভারত শাসন আইন” এর ৯১ ও ৯২ ধারা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল (Totally Excluded Area) বলে ঘোষনা করা হয়। এর কিছুকাল পরেই বাজার ফান্ড নামক একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়; যা’ অনেকটা পৌর শাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই কার্যক্রম পরিচালনায় বৃটিশ সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে বাজার ফান্ড বিধিমালা, ১৯৩৭ প্রবর্তন করা হয়। ডেপুটি কমিশনার এই বাজার ফান্ডের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন।

সার্বিক বিবেচনায় ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনের মর্যাদা অনুযায়ী উপজাতি নেতৃবৃন্দ বিষয়টি যেভাবেই গ্রহন করুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে এই ম্যানুয়ালের মাধ্যমে উপজাতিদের ক্ষমতাহীন ও মর্যাদাহীন করা হয়। তারা ভূমির মালিক হওয়ার পরিবর্তে বৃটিশদের আজ্ঞাবহ শ্রেনীতে পরিণত হয়। এই রেগুলেশন এর মাধ্যমে স্থানীয় উপজাতিদের কেউ কেউ কার্বারী-হেডম্যান, দেওয়ান কিংবা রাজা হওয়ার সুযোগ পেলেও তাদের নিযুক্তি দিতেন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ, তাদের কোন নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। তাঁরা ছিলেন মূলত ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদ নীতি ও বিভিন্ন বিধি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধি মাত্র। নির্বাহী ক্ষমতাহীন তথাকথিত সার্কেল প্রধান অথবা রাজা  বিষয়টি অনেকটা প্রতীকি। তারা ছিলেন পরিপূর্নভাবে ব্রিটিশ অনুগত। পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতি নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশদের এতটাই অনুগত হয়েছিল যে, বিংশ শতাব্দীর প্রথম কয়েক দশকে সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপকভাবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হলেও, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি প্রতিবাদ সভা ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি দেখা যায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি নেতৃবৃন্দের ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য তথা সুসম্পর্ক রাখার উদ্দেশ্য সম্পর্কিত আরো একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে;  তৎকালীন চাকমা রাজা নলিনাক্ষ রায়ের কন্যা অমিতি রায়ের সাথে তৎকালীন ব্রিটিশ ডেপুটি কমিশনার লেফটেন্যান্ট কর্নেল অ্যাংগাস হিউমস এর প্রনয় পরবর্তী বিবাহকে পারিবারিকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে এই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলেও রাজার অপর কন্যা মৈত্রী রায়ের সাথে ঐ একই ব্যক্তির বিবাহ হয়েছিল।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর  পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের অধীনে আসলে ১৮৮১ সালে প্রণীত “পার্বত্য চট্টগ্রাম ফ্রন্টিয়ার পুলিশ রেগুলেশন” বাতিল করা হয়  এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যে উপজাতিদের নিয়ে গঠিত পুলিশ বাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়। তবে ১৯৫৬ সালে রচিত পাক্স্তিান সংবিধান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ সংবিধানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “এক্সক্লুডেড এরিয়া” বলে ঘোষনা করে ১৯০০ সালের রেগুলেশনটি আমলে নেয়া হয়। এই সংবিধানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীগুলো প্রথমবারের মত ভোটাধিকার লাভ করে।  ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের উপর সংশোধনী এনে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে একটি প্রবিধান জারি করা হয়। এই প্রবিধান মতে বৈধ স্বত্বাধিকার বিশিষ্ট যেকোনো ভূমি যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৯০০ রেগুলেশন বা এর অধীন প্রণীত কোন আইন দ্বারা পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়, কিন্তু জনস্বার্থে উক্ত ভূমি আবশ্যক হলে তখন ডেপুটি কমিশনার লিখিত আদেশের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন। ১৯৬১ খৃষ্টাব্দে ১৯০০ সালের রেগুলেশনে নতুন একটি ধারা সংযুক্ত করা হয়, যেখানে Board of Revenue (BoR) জেলা প্রশাসক কার্যালয়কে যেকোন পরিমান জমি উপজাতি অথবা অ-উপজাতি যে কাউকেই বিশেষ আদেশে বরাদ্ধ করতে পারতো। জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে পূর্ব পাকিস্তানের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।  তার মধ্যে ১৯৬৩ খৃষ্টাব্দে পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৯০০ রেগুলেশন এবং পরবর্তী বিভিন্ন সংশোধনী অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের অঞ্চল ভিত্তিক বিশেষ মর্যাদা যেমন ব্যাকডেটেড এরিয়া, এক্সক্লুডেড এরিয়া ইত্যাদির সংশোধনী এনে এই অঞ্চলের মর্যাদা “ট্রাইবাল এরিয়া” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালের শেষের দিকে এক সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ওই বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়,  যার বাস্তবায়ন হয় ১৯৬৪ সালে। এই আদেশ বাস্তবায়নের সময় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান বিদেশে থাকায়  ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী। তবে চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্তের কিছুকাল পূর্বে  ১৯৬৪ সালে ঢাকা হাইকোর্টের একটি রায়ে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়ালের ৫১ নম্বর ধারাটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।এ ধারা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার পার্বত্য অঞ্চলে আগত অ-উপজাতীয় বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে পারতেন। তবে ১৯৬৭ সালের ৩০শে জুন তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের সমর্থনে রাখার জন্য পাকিস্তান সরকার পার্বত্য জনগোষ্ঠীর নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শাসন কার্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আসে।১০

  • সরকারের প্রতিনিধি এবং পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো মধ্যম ব্যক্তি থাকবে না। পাহাড়িদের পারস্পরিক বিবাদ কোর্টের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।
  • আইনগত পদ্ধতি যতদূর সম্ভব সরলীকরণ করতে হবে। বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রে পাহাড়িদের উপর অতিরিক্ত খরচের ভার চাপানো যাবে না।
  • কম খরচে দ্রুত বিচার কার্য সমাধা করতে হবে।
  • পাহাড়িদের নিজস্ব আইন, প্রথা এবং রীতিনীতিতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে Board of Revenue (BoR) কে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাস জমি বহিরাগতদের এবং শিল্প উৎপাদনে আগ্রহীদের বিশেষ বিবেচনায় বন্দোবস্তি দেওয়ার ক্ষমতা অর্পন করা হয়েছিলো। এসময় ব্যক্তি পর্যায়ে বন্দোবস্তিকৃত জমির পরিমান ২৫ একর থেকে হ্রাস করে ১০ একরে নামিয়ে আনা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রণীত সংবিধানে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন বিধিসমূহ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এমএন লারমা, চারু বিকাশ চাকমা, মং প্রু সেইনসহ কয়েকজন প্রথম সারির উপজাতি নেতৃবৃন্দ  সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সাথে স্বাক্ষাত করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্বশাসন সহ চার দফা দাবি পেশ করেন। এখানে উল্লেখ্য, নতুন প্রবর্তিত সংবিধানের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের সমগ্র এলাকাকে বাংলাদেশের ভৌগলিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছিল। উপজাতি নেতৃবৃন্দের তৎকালীন সময়কার চার দফা দাবি নিম্নরূপ:

  • পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব আইন পরিষদ বাস্তবায়ন।
  • সংবিধানে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের অনুরুপ বিধি অন্তর্ভুক্তি।
  • উপজাতি রাজার পদ সংরক্ষণ।
  • ১৯০০ সালের রেগুলেশন সংশোধনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি বসতি স্থাপন বন্ধকরণ।

উপজাতি নেতৃবৃন্দের সংবিধান বিরোধী অযৌক্তিক দাবিগুলো স্বভাবতই তৎকালীন সরকার আমলে নেয়নি। তাছাড়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হবার পর তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আইন কানুন সমূহ বহাল রাখা হয়েছিল। সেই হিসাবে ঐ সময়ে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন একটি মৃত আইন হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া সমীচিন ছিল; কারন পাকিস্তান সরকার ১৯৬৪ সালে এই রেগুলেশন বাতিলের ঘোষনা দিয়েছিল। এরই মাঝে গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে শান্তিবাহিনীর ব্যাপক উৎপাত শুরু হয়। তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক ও সামরিক ভাবে শান্তিবাহিনীকে মোকাবেলার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সমতল ভূমির বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙ্গালীদের পাহাড়ে নিয়ে এসে পরিবার প্রতি ০৫ একর খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকার কর্তৃক বাঙ্গালীদের কবুলিয়ত এর মাধ্যমে উক্ত ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পূর্নভাবে বিধি সম্মত ছিল। কারণ ১৯০০ সালের রেগুলেশনের বিষয়টি আমলে নিয়ে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বাঙ্গালীদের পাঁচ একর করে ভূমি বরাদ্দের বিষয়টি আইন সম্মতই ছিলো। তথাপিও বিষয়টি সম্পর্কে সকল সংশয় দূরকরনের জন্য ১৯৭৯ খৃষ্টাব্দের মার্চ মাসে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুরেশনের ধারা ৩৪ (১) এর বিশেষ সংশোধনী এনে Board of Revenue (BoR) এর অনুমোদন ব্যতিরেকে অ-উপজাতিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন ভাবে আগমনের ক্ষেত্রে আইনগত সকল বাঁধা রহিত করা হয়।

উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকারিতা
ছবি-১: ১৯৮৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে ভেঙ্গে তিনটি আলাদা জেলায় রুপান্তর করা হয়।

১৯৮৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে তিনটি আলাদা আলাদা জেলা অর্থাৎ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বিভক্ত করা হয়।

গত শতকের আশির দশকে শান্তিবাহিনীর নৃশংসতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছিল। তাদের সন্ত্রাসের মর্মান্তিক স্বীকার হচ্ছিলো সাধারণ বাঙ্গালীরা। সরকার কর্তৃক কবৃলিয়তের মাধ্যমে প্রদানকৃত জমিতে নিজের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই দুষ্কর হয়ে যাচ্ছিলো। পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরে তৎকালীন সরকার নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্প এলাকাগুলোর নিকটস্থ স্থান সমূহে গুচ্ছগ্রাম তৈরী করে বাঙ্গালীদের সেখানে স্থানান্তর করে। এরই মাঝে দূষ্কৃতিকারীরা ১৯৮৭ সালে খাগড়াছড়ি আদালত ভবনে অগ্নিসংযোগ করে। এ ভবনেই জমি ও প্রশাসনিক কাগজপত্র এবং রেকর্ড সংরক্ষন করা হতো। অগ্নিসংযোগের ফলে সকল দলিল ও রেকর্ড ভষ্মিভূত হয়। স্থানীয় বাঙ্গালীদের মতে, ঐ সময় পরিকল্পিত ভাবে খাগড়াছড়ি আদালত ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিলো, যাতে সরকার বাঙ্গালীদের জমির দাবি ও মালিকানা প্রমান করতে না পারে।

শান্তিবাহিনীর  ক্রমাগত উৎপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো অশান্ত হয়ে উঠলে তৎকালীন সরকার উপজাতি নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন সময় আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চালায়। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করা হয়  এবং এই পরিষদ পরিচালনা করার জন্য যে আইনটি প্রবর্তিত হয়। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ রহিত করে স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন প্রযোজ্য হবে এই মর্মে বর্ণনাও করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের মধ্যে আলোচনার সূত্রপাত হলে  পার্বত্য চট্টগ্রাম ১৯০০ রেগুলেশন কার্যকরী কি-না সেই বিষয়ে তৎকালীন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। বিশেষ কার্যাদি (কল্যাণ) মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) জনাব মোঃ আশিকুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারক নং বিকা (কল্যাণ) ম-৭(৯) ৯০ (প্রঃ)/২৭, তারিখ ২৯-১০-১৯৯০ এর মাধ্যমে “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০” আইনটি বহাল এবং কার্যকর থাকবে, এরূপ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতিদের প্রতিনিধি হিসেবে পিসিজেএসএস এর যে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের অনুচ্ছেদ ১১ তে উল্লেখ করা হয় যে,  ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং অন্যান্য  সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৯ সালের স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনে যদি কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তবে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশক্রমে সেই অসঙ্গতি আইনের মাধ্যমে দূর করা হইবে। পার্বত্য চুক্তিতে বিষয়টি এইভাবে উল্লেখ থাকলেও এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শুরুতেই বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের  আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তরফ হইতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার অধিবাসীদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিল”, এইরূপ বর্ননা করা হযেছিল। অর্থাৎ পার্বত্য চুক্তির মাঝেও সংবিধান সমুন্নত রাখা বাঞ্চনীয়। তাই বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ এবং ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সকল স্থানেই সকল নাগরিকের বসবাস করার অধিকার আছে, এ বিষয়টিও আমলে নেওয়া প্রয়োজন।

২০০৮ সালে সাবেক প্রধান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দুইটি রায়ে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের কার্যকারিতার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় চলে আসে। রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস মামলা এবং ওয়াগ্গাছড়া টি স্টেট মামলার রায় লিখতে গিয়ে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯০০ সালের রেগুলেশনটি মৃত আইন কি-না এ বিষযে মতামত ব্যক্ত করেছেন। ঐ রায়ের বর্ননায় প্রতীয়মান হয় যে, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনে করেন ১৯০০ সালের রেগুলেশনটি সম্পূর্ন একটি বৈধ আইন।

নানা কারণে ১৯০০ সালের রেগুলেশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে; তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সময়ে এই রেগুলেশনটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আইন-কানুন সমূহকে কার্যকরী হিসেবে আমলে নেয়া হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে স্থানীয় সরকার আইন  প্রবর্তনের সময় যেহেতু ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে রহিত করার কথা বলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে আলোচিত রেগুলেশনটি কার্যকরী, এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেহেতু অনুমান করা যায়, বাংলাদেশের জন্ম থেকে এখনো পর্যন্ত ১৯০০ সালের রেগুলেশনটি কার্যকরী। কিন্তু ১৯৮৯ সালের স্থানীয় সরকার পরিষদ, যা পরবর্তীতে পার্বত্য জেলা পরিষদ নামে রূপান্তরিত হয়েছিল, তা’ ১৯০০ সালের রেগুলেশনের বিধান সমূহের সাথে সাংঘর্ষিক; কারণ ১৯০০ সালের রেগুলেশন অনুযায়ী  ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে সকল কার্যক্রম সংগঠিত হবার কথা রয়েছে; কিন্তু পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হওয়ার পর জেলা পরিষদের আওতাধীন বিষয়গুলো এক প্রকার দ্বিমুখী নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে স্বার্থান্বেষী মহল তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো কখনো জেলা প্রশাসকের দপ্তরকে ব্যবহার করছে, আবার কখনো কখনো জেলা পরিষদের কার্যালয়কে ব্যবহার করছে। এছাড়া আরো একটি প্রশাসনিক বিষয় এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে,  পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যার সমাধানে ভূমি জরিপ না হওয়ায় ভূমি কমিশনের পক্ষে কার্যকরী সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ভূমি জরিপের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত হলেও ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের। ফলশ্রুতিতে একটি জেলার ভেতরে এই উভয় সংস্থার মধ্যেই কর্মপন্থা নির্ধারণে ভুল বোঝাবুঝি বা মতবিরোধের সম্ভাবনা থাকবে। যদিও পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি জরিপের বিষয়ে সন্তু লারমা সহ জ্যৈষ্ঠ উপজাতি নেতৃবৃন্দের অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অনুযায়ী বন্দোবস্তিকৃত, লীজকৃত অথবা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির পরিমান বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। সরকার কর্তৃক ভূমি জরিপ করা হলে উপজাতি অনেক ধর্নাঢ্য ব্যক্তিবর্গ আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তিন পার্বত্য জেলায় তাদের অনেকেরই নামে-বেনামে শত শত একর জমি দখলে রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি নির্ভূল ভূমি জরিপের মাধ্যমেই ভূমি সমস্যার আসল চিত্র উন্মোচন করা সম্ভব। দেশের সংবিধান, প্রচলিত বিধিমালা, আইন-কানুন এমনকি ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে বৈধ প্রতীয়মান করে ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা “ভূমি সমস্যা”র সমাধান তরান্বিত হবে। আর ভূমি জরিপ ছাড়া ভূমি সমস্যার সমাধানও দুষ্কর।

উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতিতে ১৯০০ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন” এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকারিতা
ছবিঃ ২। সন্তু লারমা

সামগ্রিক বিষয়াবলী অধিক গুরুত্বপ্রাপ্তির দাবি রাখে। কারণ, সন্তু লারমার কিছু কিছু মন্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী যেকোন মানুষকেই ভাবিয়ে তুলবে। তিনি বলেছিলেন, সরকার শান্তি চুক্তি লংঘন করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধ নাগরিকদের স্থায়ী সনদপত্র প্রদান করছে। সময় এলে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা প্রশাসকের দেয়া সব সনদপত্র বাতিল করবে১১ অন্য একটি অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যেদিন পার্বত্য চুক্তি কার্যকর হবে সেদিনই জেলা প্রশাসক প্রদত্ত অস্থায়ী বাসিন্দাদের সব সনদপত্র বাতিল ঘোষনা করা হবে ডিসি বা ইউএনও নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও পার্বত্য অঞ্চলের জমির খাজনা আদায় না করার জন্য সন্তু লারমা হেডম্যানদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, পার্বত্য এলাকায় আমি যা বলবো তাই হবে তিনি নিজেকে পার্বত্য এলাকার বিশেষ ব্যবস্থা প্রধান হিসেবে দাবি করে বলেছেন, আমি এ অঞ্চলের প্রধান।১২  ইতিহাস ও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষন করলে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯০০ সালের রেগুলেশন এবং বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধনী নিয়ে সংশয়, স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইন বা প্রবিধানের অপব্যবহার ইত্যাদি চলমান থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান সুদুরপ্রসারী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তথ্য সূত্র

1.     Hunter., W.W., A Statistical account of Bengal, Trubner & Co. London, 1876,p. 203.

2.     Mohsin, Amena. The the politics of Nationalism : The Case of Chittagong Hill Tracts, UPL, Dhaka, 1997, p.22.

3.     Furrer-Haimendrof, Chiristoph Von, `The Problems of Tribal Population in Modern India’, in Maison , p. (ed) India and Ceylon: Unity and Diversity OUP, London, 1967, p.186.

4.      Ali, S Mahmud, The Fearful State. p. 177.

5.      Hussain, S. Anwar, War and Peace in the Chittagong Hill Tracts, Dhaka, Agamee Prokashani, 1999, p. 9.

6.     Regulation 34 (B) was inserted Vide the Chittagong Hill Tracts – No. 1R – 17/60/276 – R.L. dated 16/06/61 from the Section Officer to the Government.

7.      Jahan, Rounaq, Pakistan: Failure in National Integration, Oxford University Press, 1973, p.6.

8.      Ali, S Mahmud, The Fearful State. p. 174.

9.     Roy, Raja Debasish. “The Erosion of Legal and Constituional safeguard of the Hill People of the CHT in Bangladesh : An Historical Account”. Paper Presented at a seminar on ‘The Chittaging Hill Tracts Problem in Bangladesh’. Organized by the Manoghar Shishu Sadan. Rangamati, April 1992.

10.                        Rahman M. Shelly, The Chittagong Hill Tracts of Bangladesh : The Untold Story, CDRB, Dhaka, 1992,p.138.

11.                  দৈনিক প্রথম আলো, তারিখ- ১৬ই ডিসেম্বর ২০০৩।

12.                  দৈনিক ইনকিলাব, তারিখ- ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০০৩।

 

Parvedge Haider- Researcher, Regional Geopolitics and CHT
Email- parvedgehaider5235@gmail.com