করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে সরকারের অবস্থান ঘোলাটে, জাতীয় ঐকমত্যের দাবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দর, মানবিক করিডোর এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে সরকারের নীতিগত অবস্থান অস্পষ্ট ও বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, এসব ইস্যুতে সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক শক্তির স্বার্থ রক্ষায় মনোযোগী।
জাতীয় প্রেসক্লাবে “করিডোর/চ্যানেল, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ (সেন্টমার্টিন), বন্দর ও দেশীয় বাণিজ্য সংকট: দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা সরকারের নীতিকে “অস্বচ্ছ, ঘোলাটে ও জনগণের মতের বিরুদ্ধে” বলে আখ্যায়িত করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, করিডোর বা মানবিক চ্যানেল বিষয়টি শুধু মিয়ানমার বা রোহিঙ্গা সংকট নয়, বরং এর সঙ্গে দেশের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সম্পর্ক জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, করিডোরের নামে ‘বার্মা এক্ট’ বাস্তবায়নের চেষ্টা হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
এ সময় বক্তারা সরকারকে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনাকে বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে না দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, “জাতীয় স্বার্থে আমাদের একটি নিজস্ব বন্দর থাকতে হবে। বিদেশি কোম্পানি উপকূলীয় এলাকায় বন্দর গড়তে পারে, তবে চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের জাতীয় বন্দর হিসেবেই থাকতে হবে।”
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, করিডোর ও বন্দরের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। করিডোরের নামে রোহিঙ্গা সঙ্কট দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি, বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি হস্তক্ষেপ এনে দেশের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এতে চীন-মিয়ানমার ও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে ‘বলির পাঠা’তে পরিণত করা হতে পারে।

এছাড়া বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক আইন চালু রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দেশের যেকোনো জায়গায় সম্পত্তি কিনতে পারলেও, বাঙালিরা পার্বত্য এলাকায় জমি কিনতে পারেন না। এই বৈষম্য সংবিধানবিরোধী এবং তা অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রমে জনগণের চিন্তা, দাবিদাওয়া কিংবা নিরাপত্তার প্রতিফলন নেই। বরং, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনগণকে অন্ধকারে রেখে বিদেশি স্বার্থে কাজ করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর তারা জোর দেন।
আলোচনায় আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী এবং সরকার—দুইটি প্রতিষ্ঠানই দেশের অস্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি বা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সভা থেকে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামের সংগঠনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে করিডোর ইস্যুতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সংরক্ষণ এবং জনমত উপেক্ষা না করার আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় করিডোর, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বন্দর ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য জরুরি বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, এসব ইস্যুতে দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারণ এবং জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে দেশ ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।