পার্বত্য ৩ জেলা পরিষদের নিয়োগে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ নাগরিক পরিষদের
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। বৃহস্পতিবার রাঙামাটির স্থানীয় “আমার বাড়ি” রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে জনসংখ্যা অনুপাতে নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তি বণ্টনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক পরিষদের সভাপতি মো: সোলায়মান। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর, সহ-সভাপতি এসএমজি আলম, এবং কেন্দ্রীয় মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে মো: সোলায়মান বলেন, “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আমরা আন্দোলন করছি। অথচ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এখনো আগের মতোই উপজাতীয়দের একতরফাভাবে নিয়োগ দিয়ে বৃহত্তর বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করছে। এটি স্বাধীনতাপরবর্তী নতুন বাংলাদেশের চেতনার পরিপন্থী।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন UNDP প্রকল্পে জনবল নিয়োগে মাত্র ১০% বাঙ্গালিকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ৯০% নিয়োগ দেয়া হয় অবাঙালি চাকমা সম্প্রদায় থেকে। এছাড়া PROGRESS প্রকল্পেও শতভাগ চাকমা নিয়োগ পেয়েছে, যা জনসংখ্যা ও সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোলায়মান অভিযোগ করেন, “২০২৪ সালের ২৩ জুলাই প্রকাশিত গেজেটে উচ্চ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ৭% কোটা রেখে ৯৩% নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি হলেও জেলা পরিষদসমূহ সেটি মানছে না।” তিনি আরও বলেন, “একটি সম্প্রদায়কে একতরফাভাবে নিয়োগ, বদলি ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অন্য জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করা একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য বহন করে।”
বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি দাবি জানান, “৩০ জুনের মধ্যে নির্ধারিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুনভাবে জনসংখ্যা অনুপাতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে মেধানির্ভর, বৈষম্যমুক্ত ও জনসংখ্যাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “দাবি মানা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে পার্বত্যবাসী।”
নাগরিক পরিষদ আশা প্রকাশ করেছে, “বৈষম্যমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন পাহাড়বাসীও এই ন্যায্য দাবির পক্ষে এগিয়ে আসবে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।