যুক্তরাষ্ট্র নয়, সৌদি আরব থেকেই বেশি ভারতীয় বহিষ্কার—সরকারি তথ্যে চাঞ্চল্য
![]()
নিউজ ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকারের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য ভিন্ন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং সৌদি আরব থেকেই সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনই এসব বহিষ্কারের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।
রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগেই এসব কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও এ সংখ্যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবুও সৌদি আরবের বহিষ্কারের সংখ্যার ধারেকাছেও নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক ও শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অঙ্কের ঘরে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাব অনুযায়ী, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন সম্পর্কে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি।
প্রসঙ্গত, এসব পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভারতীয় কর্মীদের অবস্থান ও বিদেশে কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে, যা অভিবাসন নীতি ও প্রবাসী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।