দিল্লির ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদকালে সংঘর্ষ

দিল্লির ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদকালে সংঘর্ষ

দিল্লির ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদকালে সংঘর্ষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লির রামলিলা ময়দান-তুর্কম্যান গেট এলাকায় সৈয়দ ফয়েজ এলাহী মসজিদ ও নিকটস্থ কবরস্থান সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করার সময় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন মতে, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এমসিডি)। এ সময় পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

দিল্লি পুলিশ জানায়, পৌর কর্পোরেশন যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রবেশের সময় কিছু লোক নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ও কাচের বোতল ছোঁড়ে। যার প্রেক্ষিতে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়।

ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (সেন্ট্রাল) নিধিন ভালসান বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে ৬ ও ৭ জানুয়ারি স্থাপনাগুলো ভাঙার সময় নির্ধারণ করা হয় এবং আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিরাপত্তা কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য স্থানীয় অংশীদারদের সাথে বেশ কয়েকটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য সকল প্রতিরোধমূলক এবং আত্মবিশ্বাস তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় কিছু দুষ্কৃতকারী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ‘পরিমিত ও ন্যূনতম বলপ্রয়োগ’ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ক্লিপগুলোও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাক্ষী এবং আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে যাতে নির্ধারণ করা যায় যে সহিংসতা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল নাকি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।

এমসিডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় মসজিদটির কোনো ক্ষতি হয়নি। এমসিডির ডেপুটি কমিশনার বিবেক কুমার বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মেনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ৩৬ হাজার বর্গফুট দখলকৃত এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, একটি বিবাহ হল, একটি ডিসপেনসারি এবং আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত সীমানা প্রাচীর। কুমার বলেন, প্রায় ৩০টি বুলডোজার এবং ৫০টি ডাম্পার মোতায়েন করা হয়। সেই সঙ্গে ৩০০ জনেরও বেশি এমসিডি কর্মী এবং কর্মকর্তা রাতভর অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিল্লি হাইকোর্ট তুর্কমান গেটে সৈয়দ ফয়েজ এলাহি মসজিদ এবং কবরস্থান সংলগ্ন জমি থেকে কথিত দখল অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষের জারি করা আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একটি আবেদনের বিষয়ে নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, এমসিডি এবং দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিক্রিয়া তলব করে।

বিচারপতি অমিত বানসাল মসজিদ সৈয়দ ফয়েজ এলাহির ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এমসিডি), দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিডিএ), নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ভূমি ও উন্নয়ন অফিস (এলএন্ডডিও), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউএস) এবং দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডকে নোটিশ জারি করেন।

আদালত জানায়, ‘বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন’ এবং কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবেদনের জবাব দাখিল করতে বলে। সেই সঙ্গে এটাকে আগামী ২২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করে।

পিটিশন আবেদনটিতে এমসিডির গত বছরের ২২ ডিসেম্বর একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। গত বছরের আদেশে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ০.১৯৫ একর জমির বাইরে সমস্ত কাঠামো ভেঙে ফেলা হবে এবং মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড কর্তৃক জমির মালিকানা বা বৈধ দখল প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ০.১৯৫ একর জমিতে মসজিদটি অবস্থিত।

এমসিডির উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্তটি গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের দেয়া আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নেয়া হয়, যেখানে তুর্কমান গেটের কাছে রামলিলা মাঠে ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট দখলমুক্ত করার জন্য পুরসভা ও পিডব্লিউডিকে তিন মাসের সময় দেয়া হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *