লক্ষীছড়িতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি পরিবারকে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক পাহাড়ি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অন্তর্ভুক্ত লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনাজুরি পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উপকরণ ও একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বার্মাছড়ি আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বিনাজুরি পাড়ায় রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দা ফুচিং মারমার বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, নগদ সঞ্চয় এবং ফুচিং মারমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের সব বই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক তিন লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর মানবিক বিবেচনায় আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং বার্মাছড়ি আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সাদ-এর তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন সরবরাহ করা হয়।

একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা–২০২৬ নির্বিঘ্নে দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণের মাঝে অগ্নি নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিনাজুরি পাড়ার হেডম্যান, স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনেই নয়, বরং পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে লক্ষীছড়ি জোনের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।