শেষ দিনে রাঙামাটির গরুর হাটে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা

শেষ দিনে রাঙামাটির গরুর হাটে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা

শেষ দিনে রাঙামাটির গরুর হাটে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে শেষ দিনে এসে গরুর সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে জেলার একমাত্র বড় পশুর হাটে গরু কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা গেছে অনেক ক্রেতাকে। কয়েকদিন আগেও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর থাকা হাটে শেষ মুহূর্তে এসে গরুর স্বল্পতা তৈরি হওয়ায় বাড়তি দামে পশু বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা কোরবানির গরু কিনতে ভিড় করলেও হাটে গরুর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। বিশেষ করে যারা প্রতি বছরের মতো শেষ দিনে তুলনামূলক কম দামে গরু কেনার আশায় হাটে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পশু না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। অনেকের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে শত শত গরু ট্রাকে করে জেলার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় হাটে সংকট তৈরি হয়েছে।

গরু কিনতে আসা মো. নাছের উদ্দিন বলেন, শহরে গরু লালন-পালনের জায়গা সংকট থাকায় তিনি সবসময় শেষ দিনে গরু কিনে থাকেন। কিন্তু এবার হাটে এসে তিনি হতাশ হয়েছেন। তার ভাষায়, “হাটে গরু নেই বললেই চলে। আবার যেগুলো আছে সেগুলোর দামও অনেক বেশি। শুনেছি প্রতিদিন ট্রাকে করে গরু বাইরে চলে যাচ্ছে। এগুলো দেখার দায়িত্ব যাদের, তারা কিছুই দেখছে না।”

শেষ দিনে রাঙামাটির গরুর হাটে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা

হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ‘রয়েল’ ও ‘কালা পাহাড়’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির গরু। ইজারাদারদের দাবি, সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি দামে গরু দুটি বিক্রি হয়েছে।

গরু বিক্রেতা মো. সামশুল আলম জানান, তিনি এবার ৬০টি গরু হাটে এনেছিলেন এবং মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এবার বিক্রি খুব ভালো হয়েছে। ক্রেতার চাপও বেশি ছিল।”

রাঙ্গাপানি এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসা সুভাষ চাকমা বলেন, তিনি তিনটি গরু এনেছিলেন। এর মধ্যে দুটি বিক্রি হয়ে গেছে, একটি এখনও রয়েছে। তবে ক্রেতা থাকলেও প্রত্যাশিত দাম মিলছে না বলে জানান তিনি।

হাটের ইজারাদার রবিউল হোসেন বাবলু বলেন, জেলার বাইরে গরু চলে যাওয়ায় কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে বিকেলের দিকে আরও গরু আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ক্রেতাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি। আশা করছি সবাই তাদের পছন্দের গরু কিনতে পারবেন।”

শেষ দিনে রাঙামাটির গরুর হাটে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জেলার ১০ উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। জেলায় কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা প্রায় ৪৪ হাজার হলেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার গরু। ফলে চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি থাকলেও শেষ মুহূর্তে হাটে সরবরাহ সংকট ও বাইরে পশু চলে যাওয়ার কারণে সাময়িক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ঈদুল আজহা ঘিরে রাঙামাটির পশুর হাটে স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও গরু আসে। তবে এবার শেষ সময়ে এসে গরুর সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *