মানবতার সেবায় সেনাবাহিনীর রুমা জোন: চিকিৎসা, শিক্ষা ও সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াল স্থানীয়দের
![]()
নিউজ ডেস্ক
“সবার জন্য সেনাবাহিনী”—এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা জোন মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ইউনিট।
রুমা জোনের উদ্যোগে পরিচালিত “মানবতার সেবায় রুমা জোন” শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এলাকার অসহায় মানুষের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েডসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক রোগে ভুগতে থাকা বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার চিতানী ত্রিপুরা (৬৬) এবং মুননুয়াম পাড়ার লালপেক সম বম (৪২)-এর চিকিৎসার জন্য রুমা জোনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ব্যয়ের অভাবে কষ্টে থাকা এই দুই রোগী রুমা জোনের সহায়তায় নতুন করে স্বস্তির আশ্বাস পেয়েছেন।
একই সঙ্গে যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছিল না এবং বকেয়া বেতনের কারণে যাদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তাদের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে এই উদ্যোগ।
এর ধারাবাহিকতায় সুংসুং পাড়ার প্রয়াত লাল রাম সানহ বম-এর ছেলে জনি বমকে রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকা-এর সার্বিক সহায়তায় সেনাবাহিনী পরিচালিত বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিনামূল্যে ভর্তির পাশাপাশি শিক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে।
বড়থলি ত্রিপুরা পাড়ার দুই শিক্ষার্থী হাসিরুং ত্রিপুরা ও স্যামসম ত্রিপুরার পড়াশোনা অর্থাভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় তাদের স্কুলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয় এবং হোস্টেলে নতুন করে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও বিলাইছড়ি উপজেলাধীন ৪ নম্বর বড়থলি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের টাইগার পাড়ার বাসিন্দা পুলসেন তংচংগ্যার কনিষ্ঠ কন্যা আন্টি তংচংগ্যাকে রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রুমা বম হোস্টেলে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
রুমা জোন সূত্রে জানানো হয়, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এসব কার্যক্রম জোন কমান্ডারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দুর্গম ও যোগাযোগবঞ্চিত পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় রুমা জোনের ধারাবাহিক ভূমিকা স্থানীয় জনগণের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।