কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। সেখানে ৩৩০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় ৪০ জনের মধ্যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও প্রায় ১৬০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে ক্যাম্পের বাইরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য খাতের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)।

এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে জেলায় হামের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে মার্চ মাস থেকে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি এবং এপ্রিলে তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দল শিবিরের ভেতরে ও বাইরে কাজ করছে—অধিকাংশ রোগী ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। তাদের অনেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

‘শুধু এপ্রিলেই এমএসএফ কক্সবাজারে তাদের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২৮৪ জন হাম রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে, যা বছরের প্রথম তিন মাসে মোট চিকিৎসা পাওয়া রোগীর চারগুণ। এদের মধ্যে ৮২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে,’ বলেন তিনি।

মিকে স্টেনসেন্স বলেন, ১৯ এপ্রিল আমরা জামতলী ক্যাম্পে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছি, যা সব ক্যাম্পের জন্য একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। এটি ইতোমধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে। আমরা এর শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব

তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে সঙ্কটাপন্ন রোগীর অনুপাত উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত রোগীদের ৪০ শতাংশকে গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দরকার ছিল।

এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর বলেন, কুতুপালং হাসপাতালেও ২০ দিনের ব্যবধানে ভর্তি হওয়া ৭১ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ক্যাম্পের অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাত্রা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিলেও ক্যাম্প ও স্থানীয় এলাকায় টিকার নিম্ন হারই এখন প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্টেনসেন্স বলেন, শিবিরে হাম রোগীদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশই টিকা নেয়নি। স্থানীয় জনগোষ্ঠীতেও টিকা না নেওয়া শিশুদের হার উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ২৬ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে এমএসএফ।

স্টেনসেন্স বলেন, এই রোগ নিরাপদ, কম খরচের এবং অত্যন্ত কার্যকর টিকার দুটি ডোজের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, শিবির ও আশপাশের এলাকায় সেই হার এখনো অনেক কম। জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অপরিহার্য—একটি ছাড়া অন্যটি সফল হতে পারে না।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।