পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অনন্য ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী- ব্রিগেডিয়ার নুরুল আমিন
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করে সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নুরুল আমিন বলেছেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। পাহাড়ি ও বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেও তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও উন্নয়নের ধারা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার বলেন,
“পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতা। খেলাধুলা এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়। যুব সমাজকে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে। ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে লক্ষীছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও সিন্দুকছড়ি জোনের দলগুলোর অংশগ্রহণে রিজিয়ন পর্যায়ে বৃহৎ আকারের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, লক্ষীছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে বৃহত্তর লক্ষীছড়ি এলাকার ২২টি দল অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে তুল্যাকারবারি পাড়া মনোঘর ক্লাব ও দেওয়ান পাড়া একঝোদা ভালেদি একাদশ সংঘ ফাইনালে মুখোমুখি হয়। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ১-০ গোলে জয়লাভ করে তুল্যাকারবারি পাড়া মনোঘর ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এদিন প্রায় দুই হাজার দর্শক উপস্থিত থেকে খেলাটি উপভোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তারা শান্তি ও উন্নয়নে অব্যাহত অবদান রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফাইনাল খেলায় অন্যান্যদের মাঝে লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস্ আজিজি, লক্ষীছড়ি জোন উপ-অধিনায়কসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্বিকভাবে, লক্ষীছড়িতে আয়োজিত এই সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনই নয়; বরং এটি পার্বত্য অঞ্চলে ঐক্য, সহমর্মিতা ও উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।