স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা, অবস্থান জানান দিলো চীন

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা, অবস্থান জানান দিলো চীন

স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ইরান ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা, অবস্থান জানান দিলো চীন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের চারপাশের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিশদ উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে একটি চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চীনের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিজারভিশন’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবিগুলো পোস্ট করেছে। এতে কাতার, জর্ডান এবং সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আমেরিকার সাম্প্রতিক মোতায়েন ও প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে।”

চীনা রিমোট-সেন্সিং ফার্ম এবং চীনা সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত সংস্থাগুলো সম্প্রতি বেশ কিছু হাই-রেজোলিউশন ছবি প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোতে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি, রণতরী এবং সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

জর্ডানের চিত্রগুলোতে মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির টারমাকে ১৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টিলথ ফাইটার এবং ৬টি ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান দেখা গেছে। তবে পোস্টটিতে এই ছবিগুলো কখন বা কোন কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) মাধ্যমে তোলা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

উপগ্রহ চিত্রে আরো দেখা গেছে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধি। বিশেষ করে বিমানবাহী রণতরী এবং সেগুলোর সাথে থাকা সহায়ক জাহাজের অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর রানওয়েতে পার্ক করা যুদ্ধবিমান এবং লজিস্টিক সাপোর্টের ছবিও সামনে আনা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ছবিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে চীন তার মহাকাশ-ভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। এর আগে এই ধরনের উচ্চমানের গোয়েন্দা তথ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকারে ছিল, কিন্তু এখন চীনও সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই তথ্য প্রকাশ করার মাধ্যমে বেইজিং ওয়াশিংটনকে একটি পরোক্ষ বার্তা দিতে চাইছে। এটি যেমন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা প্রমাণ করে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ওপর নজর রাখার সক্ষমতাও প্রকাশ করে।

এই প্রথম কোনো চীনা বাণিজ্যিক সংস্থা এবং সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এভাবে মার্কিন সামরিক বিন্যাস জনসমক্ষে আনল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং তাদের উন্নত ‘রিয়েল-টাইম’ মনিটরিং ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *