নিজেকেই সম্মাননা দিচ্ছেন মিন অং হ্লাইং, বিতর্কে মিয়ানমার জান্তা প্রধানের নতুন ডক্টরেট
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং অনুগতদের উপাধি দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকেও একের পর এক সম্মাননায় ভূষিত করার প্রবণতার জন্য আবারও আলোচনায় এসেছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের আগে পাওয়া ছয়টি পদকের পাশাপাশি তিনি অন্তত ১২টি উপাধি অর্জন করেছেন—যা তাকে আধুনিক মিয়ানমারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সম্মাননা পাওয়া সামরিক শাসকে পরিণত করেছে।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কিত সম্মাননা আসে ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন ইয়াঙ্গুন ইউনিভার্সিটি তাকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। শিক্ষামন্ত্রী চাও চাও সেইন বলেন, দেশের ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ সময়ে নানা চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে সাম্প্রতিক নির্বাচন—‘সফলভাবে’ মোকাবিলার স্বীকৃতি হিসেবে এ ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর আ নিউ সোসাইটি (ডিপিএনএস)-এর সাধারণ সম্পাদক দাউ হ্নিন হ্নিন মওয়ে বলেন, “দেশ পরিচালনার জন্য তাকে উপাধি দেওয়া হাস্যকর। মিয়ানমার ও বিশ্ববাসী জানে, মিন অং হ্লাইং দেশকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন।”
গত বছরের জুলাইয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী পদে উন্নীত হওয়ার কয়েক মাস পর চাও চাও সেইন নিজ হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। জান্তা সরকারের আয়োজিত নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়, যখন দেশের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। ২০১০ সালের পর অনুষ্ঠিত চারটি নির্বাচনের মধ্যে এবারের ভোটে সর্বনিম্ন উপস্থিতি দেখা যায়।

অভ্যুত্থানের এক বছর পর মিন অং হ্লাইং নিজেকে ‘থাদো থিরি থুধাম্মা’ ও ‘থাদো মহা থ্রাই সিথু’সহ উচ্চ পর্যায়ের দুটি জাতীয় উপাধিতে ভূষিত করেন। সংবিধানের ২০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় উপাধি প্রদানের ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির হলেও, সে সময় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মিন্ট সোয়ে থাকলেও স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে মিন অং হ্লাইং নিজেই এসব উপাধিতে স্বাক্ষর করেন।
রাশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মাননা
২০২১ সালে রাশিয়ার একটি সামরিক একাডেমি তাকে সম্মানসূচক অধ্যাপক উপাধি দেয়, মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের স্বীকৃতি হিসেবে। ২০২৩ সালে তিনি তথাকথিত ‘মানবিক কাজের’ জন্যও একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট পান। সমালোচকদের মতে, তার শাসনামলে বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৬ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—যা তার ‘মানবিক কাজের’ বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

অভ্যুত্থানের আগে তিনি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকেও তিনটি উপাধি পান। তবে ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মালয়েশিয়াকে তার সম্মাননা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিল। রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনযজ্ঞ তদারকির অভিযোগে মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি।
দেশের ভেতরেও জাতীয়তাবাদী সংগঠন ইয়াং মেন’স বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমবিএ) ২০১৯ ও ২০২০ সালে তাকে তিনটি উপাধি দেয়।

সমালোচকদের মতে, পদক ও উপাধির সংগ্রহ বাড়লেও তার শাসনামলে পাঁচ বছরে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্য, স্বর্ণ ও মার্কিন ডলারের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি ঘটেছে—যা অনেকের মতে কার্যত আইনের শাসনের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
-ইরাবতী।