সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ

সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ

সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি জেলার নানিয়ারচর থেকে লংগদু উপজেলার সাথে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে একের পর এক ষড়যন্ত্র ও বাঁধা প্রদান করে আসছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ। এবার সড়ক নির্মান কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাংচুর সহ অকেজো করে দেবার অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

তিন উপজেলার সংযোগ এই সড়কটির কাজ শেষ হলে রাঙামাটি জেলা সদরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়িতে সরাসরি যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে সময় ও অর্থ বাঁচবে, কৃষি ও পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবায় সহায়ক হবে।

জানা যায়, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটি নিয়ে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কোন সরকারের আমলেই। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য, লংগদু উপজেলার সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিনহাজ মুরশীদ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ

শুরুতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ বেশ কিছু ঠুনকো অভিযোগে সড়ক নির্মান বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। তবে সেসময় খুব বেশী সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তীতে পাহাড়ের সাধারন মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে ভুমি হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করে মাঠে নামায় সন্ত্রাসীরা। বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ-সমাবেশের পরও বৃহত্তর রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ি ও নানিয়ারচরবাসীর প্রাণের দাবি এই সংযোগ সড়ক নির্মান কাজ ঠেকাতে পারেনি ইউপিডিএফ।

নানা বাধা পেরিয়ে কাজ শুরু হয় কাঙ্খিত ওই সড়কের। আট মাসের কাজের পর লংগদু থেকে নানিয়ারচর পর্যন্ত রাস্তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আসে। তবে নতুন করে ষড়যন্ত্র চালায় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। সংযোগ সড়ক হলে তিন উপজেলার মানুষ সহজে জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। তবে সড়ক নির্মাণের ফলে মানুষের যাতায়াত বাড়লে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ভাটা পড়বে বলে ইউপিডিএফ নানা ষড়যন্ত্র করেছে।

সড়কটির এক-তৃতীয়াংশ পাহাড়ি এলাকা ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রনাধীন বলে জানা গেছে, যেখানে বাঙালি শ্রমিকদের কাজ করা সম্ভব নয়, তবেুও নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়েই কাজ চলমান ছিলো। বর্তমানে সড়কটি মোটরসাইকেল চলাচলের উপযোগী হলেও সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল।

সড়ক নির্মানে অব্যাহত বাঁধা ইউপিডিএফের, নির্মানকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম অকেজো করার অভিযোগ

নির্বাচনের পর আবার কাজ শুরু হলে দেখা যায়, সড়ক নির্মানে ব্যবহৃত এক্সেভেটরের যন্ত্রপাতি লুট ও ভাঙচুর করা হয়েছে, এসব সরঞ্জোমের ইঞ্জিনে বালু ও পানি ঢুকিয়ে অকেজো করে রাখা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মাটি কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সম্প্রতি ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা দুটি গাড়ি অকেজো করেছে, যার ফলে শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত সড়কটি সম্পন্ন না হলে জনস্বার্থে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দ্রুত বাকি অংশের কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব।

জেলা পরিষদ সদস্য মিনহাজ মুরশীদ জানিয়েছেন, অনেক কষ্টের বিনিময়ে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতা ছিল। নির্বাচনকালীন বিরতির পর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। অল্প কাজ বাকি আছে, তা শেষ হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কিছুটা লাঘব হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।