পরিষদ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি, ১৯০০ শাসনবিধি বাতিলের আহ্বান

পরিষদ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি, ১৯০০ শাসনবিধি বাতিলের আহ্বান

পরিষদ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীক স্মারকলিপি, ১৯০০ শাসনবিধি বাতিলের আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজনসহ সাত দফা দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব শাব্বির আহম্মেদ, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা। দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদে বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি জানায়, পাহাড়ে সশস্ত্র বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এসব আইন ও চুক্তি বাতিল করে সমতলের জেলার মতো সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া ভূমি কমিশন আইন সংশোধন, সকল সম্প্রদায়ের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজ লোন চালু রাখা এবং শিক্ষা, চাকরি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে, যা অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed