পার্বত্য চট্টগ্রামকেও আমরা ফেরত নিয়ে এসে আমাদের পতাকা উড়াবো- প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনীতিক ও ত্রিপুরা রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা আবারও বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি দাবি করেছেন, “একদিন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ফিরিয়ে এনে সেখানে আমাদের পতাকা উড়ানো হবে।” তার এমন মন্তব্যকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) ভারতের আগরতলা শহরের এনইজেডসিসি শিল্পগ্রাম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া চাকমা স্টুডেন্ট’স ইউনিয়নের তৃতীয় বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— পরিচয়, ছাত্র নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংলাপ।
সম্মেলনে প্রদ্যোত দেববর্মণ বলেন, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সেই চুক্তি নিয়ে এখনো নানা বিতর্ক রয়েছে এবং প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি।
প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মার বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেয়া বক্তব্যটি এখানে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমস্যা হলো আমরা মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রাম অন্য দেশের জায়গা। কিন্তু আমি মনে করি এটা আমাদেরই জায়গা। আমরা যদি এক হতে চাই, তখন বিভাজন তৈরি করা হয়— কেউ মিজোরামের, কেউ ত্রিপুরার, কেউ অরুণাচলের বলে আলাদা করা হয়। কিন্তু আমরা সবাই এক। একদিন আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ফিরিয়ে এনে আমাদের পতাকা উড়াবো।”
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও চাকমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। সেখানে নিরুপম চাকমা ও মলিন কুমার চাকমাসহ বিভিন্ন বক্তা সম্প্রদায়ের পরিচয়, ছাত্র নেতৃত্বের ভূমিকা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তব্যে প্রদ্যোত দেববর্মণ উত্তরাখণ্ডে নিহত এঞ্জেল চাকমার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এঞ্জেল চাকমার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় সে জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে জনজাতিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছে এবং এই বিভাজন দূর না হলে জনজাতিদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রদ্যোত দেববর্মণের এমন বক্তব্য নতুন নয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। এসব বক্তব্যকে অনেকেই আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আবেগকে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। তারা মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।