থানচির দুর্গম রেমাক্রীতে তীব্র পানির সংকট, সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহে ১৫ গ্রামের মানুষ

থানচির দুর্গম রেমাক্রীতে তীব্র পানির সংকট, সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহে ১৫ গ্রামের মানুষ

থানচির দুর্গম রেমাক্রীতে তীব্র পানির সংকট, সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহে ১৫ গ্রামের মানুষ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবানের থানচি উপজেলার নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি পল্লীগুলোতে এখন তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানির অভাবে সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করে জীবনধারণ করছেন অন্তত ১৫টি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝিরি ও ঝর্ণার পানিতেই কোনোভাবে দিন কাটলেও শুষ্ক মৌসুম এলেই দেখা দেয় চরম সংকট। দুর্গমতার অজুহাতে বছরের পর বছর ধরে এসব গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেটওয়ার্ক না থাকায় অসুস্থদের চিকিৎসা সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

জানা গেছে, কোনো কোনো গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি কিংবা সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। পানি সংকটে ভোগা গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে— হুকু খুমী পাড়া, সাখয়উ পাড়া, খেসাপ্রু পাড়া, ক্যমং হেডম্যান পাড়া, রুংসোলা পাড়া, মতি ত্রিপুরা পাড়া, চাইশৈউ পাড়া, ঙাসালাং পাড়া, উষাথোয়াই পাড়া, বাসিংঅং পাড়া, য়ংনং পাড়া, ক্রাহ্লাঅং পাড়া, অতিরাং পাড়া, অংহ্লা খুমী পাড়া ও জগৎচন্দ্র পাড়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ঝিরি ও ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সাঙ্গু নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব পানি কাদামাটিযুক্ত ও অপরিশোধিত হওয়ায় তা পান করে শিশু ও বয়স্করা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

এলাকাবাসীদের ভাষ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত থানচির দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এসব পল্লীতে নলকূপ কিংবা গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই নিরাপদ পানির জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শান্তিরানী ত্রিপুরা (২৮), ডানিয়াল খ্যাং (৩৩) ও মথিচন্দ্র ত্রিপুরা (৪২) জানান, এলাকায় বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে নদীর ধারে গর্ত খুঁড়ে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক নজরদারিও সীমিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকট অব্যাহত রয়েছে।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, বিকল্প নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন ও প্রয়োজনীয় শোধন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, গর্ত খুঁড়ে যে পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অপরিশোধিত। এ ধরনের পানি পান করলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই স্থানীয়দের পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্বপন চাকমা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রস্তাবের ভিত্তিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed