মেঘালয়ে নির্বাচনী উত্তেজনা: কারফিউ জারি, পুলিশের গুলিতে নিহত ২

মেঘালয়ে নির্বাচনী উত্তেজনা: কারফিউ জারি, পুলিশের গুলিতে নিহত ২

মেঘালয়ে নির্বাচনী উত্তেজনা: কারফিউ জারি, পুলিশের গুলিতে নিহত ২
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম গারো হিলস জেলায় গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (জিএইচএডিসি) নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় কারফিউ জারি এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে পৃথক এক ঘটনায় পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানায়, ১০ মার্চ থেকে পশ্চিম গারো হিলস জেলার কিছু এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ছড়ানো ঠেকাতে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৭২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলার চিবিনাং এলাকায় জিএইচএডিসি নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরই প্রশাসন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিভোর আগরওয়াল বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালে পশ্চিম গারো হিলস জেলার সীমার মধ্যে বাসা থেকে বাইরে মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বিধিনিষেধ প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক। সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ, ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পুলিশ ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) সদস্যদের মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি জিএইচএডিসি নির্বাচনের আচরণবিধি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ মার্চ এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১১ এপ্রিল।

Curfew, internet suspension imposed in Meghalaya’s West Garo Hills after unrest over GHADC polls

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও জেলা পরিষদ বিষয়ক দপ্তরের কমিশনার ও সচিব সিরিল ভি. ডিয়েংদোহ জানান, রাজ্য সরকার পশ্চিম গারো হিলসের ডেপুটি কমিশনারসহ সব ডেপুটি কমিশনারকে সম্প্রদায়ের নেতাদের নিয়ে শান্তি কমিটির বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ডিসিকে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে শান্তি কমিটির বৈঠক করার এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর নির্দেশ দিয়েছি।” প্রয়োজনে জেলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পশ্চিম গারো হিলসের ডেপুটি কমিশনারকে একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জিএইচএডিসি নির্বাচনের জন্য সোমবার থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল শুরু হয়েছে এবং তা ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে। তবে প্রথম দিনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি; রাজনৈতিক দলগুলো কেবল সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে পশ্চিম গারো হিলস জেলার চিবিনাং গ্রামে রাতের কারফিউ চলাকালে একটি অবৈধ সমাবেশে পুলিশ গুলি চালালে দুইজন নিহত হন। কর্মকর্তারা জানান, ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য জিএইচএডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজাতি ও অ-উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। কারফিউ উপেক্ষা করে একদল লোক জড়ো হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে।

এরপর জেলা প্রশাসন পুরো পশ্চিম গারো হিলস জুড়ে সারাদিনের কারফিউ জারি করে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৭টি স্পর্শকাতর গ্রামে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। ৯ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অ-উপজাতিদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের বিক্ষোভের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজ্য সরকার মধ্যরাত থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ডাটা সেবা স্থগিত করেছে, যাতে ভুল তথ্য ছড়ানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানো ঠেকানো যায়। তবে ভয়েস কল ও এসএমএস সেবা চালু রাখা হয়েছে।

ডেপুটি কমিশনার বিভোর আগরওয়াল মঙ্গলবার তুরার সার্কিট হাউসে একটি শান্তি কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন। সেখানে চার্চের নেতা, বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয় কমিটির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন সাবেক ফুলবাড়ি বিধায়ক এস্তামুর মোমিনিন তুরায় ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন, প্রার্থীদের অবশ্যই তফসিলি জনজাতি (এসটি) সনদধারী হতে হবে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জিএইচএডিসি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও পাস করেছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed