নারী যোদ্ধাকে ধর্ষণ-নির্যাতনের অভিযোগ: এনইউজির কাছে ‘দ্রুত ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান

নারী যোদ্ধাকে ধর্ষণ-নির্যাতনের অভিযোগ: এনইউজির কাছে ‘দ্রুত ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান

নারী যোদ্ধাকে ধর্ষণ-নির্যাতনের অভিযোগ: এনইউজির কাছে ‘দ্রুত ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের ইয়িনমাবিন টাউনশিপে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যাটালিয়ন-২০ এর এক নারী সদস্যকে আটক রেখে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে “সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১৪৯টি সুশীল সমাজ সংগঠনের একটি জোট।

সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, ওই নারী—যিনি একজন তরুণ প্রতিরোধ যোদ্ধা—২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ব্যাটালিয়নের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্যের হাতে বেআইনিভাবে আটক, প্রকাশ্যে মারধর, নির্যাতন এবং বারবার যৌন সহিংসতার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের ঘটনাগুলো কখনো আটক কক্ষে, আবার কখনো ব্যাটালিয়নের অভ্যন্তরীণ চত্বরে সংঘটিত হয়।

সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী চার বছর আগে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এ স্বামীর সঙ্গে কাজ করছিলেন। ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাসিন্দাদের কাছ থেকে অনুমোদন ছাড়া অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে ডেপুটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার গ্রামবাসীদের সামনে তাকে মারধর করার পর আটক করা হয়।

২৫ বছর বয়সী ওই নারী এবং তার তিন বছর বয়সী সন্তানকে পরে ব্যাটালিয়নের আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। এ সময় তার স্বামী একটি অভিযানে বাইরে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ওই নারীর অনুরোধ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার প্রত্যাখ্যান করেন।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তাকে ধর্মীয়ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কর্মকর্তারা তার মুসলিম ধর্মবিশ্বাস নিয়ে উপহাস করেছেন এবং তাকে “কালার-মা” বলে ডেকেছেন—যা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীদের উদ্দেশে ব্যবহৃত একটি বর্ণবাদী গালি। সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, এক পর্যায়ে এক হামলাকারী তার উরুতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের নাম “ইয়ান শিন” খোদাই করে এবং তার পায়ের পেশিতে ব্যাটালিয়নের সংক্ষিপ্ত নাম “YMYZ” খোদাই করে দেয়।

এই অভিযোগিত নির্যাতনের ঘটনাগুলো এমন এক সময় ঘটে, যখন ইয়িনমাবিন এলাকায় প্রতিরোধ বাহিনী এবং বো নাগারের নেতৃত্বাধীন বামার ন্যাশনাল রেভল্যুশনারি আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল। সম্প্রতি বো নাগার সামরিক জান্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার সময় ব্যাটালিয়নের অনেক সদস্য অবস্থান ছেড়ে চলে যায় বলে জানা যায়। এর ফলে ওই নারী এবং তার সন্তান পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এনইউজির স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী ইউ কিয়াও নি সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সংঘাত সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনার জন্য জান্তা বাহিনী দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৯০০টিরও বেশি এমন ঘটনার নথিভুক্ত হয়েছে। তবে নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিজেদের বাহিনীর মধ্যেও যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, সেক্ষেত্রেও এনইউজির কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সোমবারের যৌথ বিবৃতিতে সুশীল সমাজ সংগঠনগুলো জানায়, এই ঘটনা বিপ্লবের মর্যাদা ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করেছে। তারা পাঁচ বছর ধরে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি তোলে।

এর আগে এক ডজনের বেশি নারী অধিকার সংগঠন এনইউজির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দুয়া লাশি লার কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠায়। সেখানে ধর্ষণ ও নির্যাতনের এই অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী নারী এবং তার পরিবারের জন্য জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ব্যাটালিয়নে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপের মুখে আছেন বলে জানা গেছে।

সংগঠনগুলো পাঁচ বছর ধরে চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের জন্যও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ২ হাজারের বেশি নারী এবং ১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *