রামগড়ের পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, প্রশাসক নিয়োগের দাবি সদস্যদের

রামগড়ের পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, প্রশাসক নিয়োগের দাবি সদস্যদের

রামগড়ের পাতাছড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা, প্রশাসক নিয়োগের দাবি সদস্যদের

কাজী নুরুল আলম (আলমগীর)- ফাইল ফটো।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম (আলমগীর)-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা। একইসঙ্গে অভিযোগটি উপজেলা প্রশাসনের কাছেও দাখিল করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান গণি মেম্বার রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। প্রস্তাবে ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আব্দুল লতিফ এবং সংরক্ষিত সদস্য শাহেনা আক্তার, পারভীন আক্তার ও কুসুমবালা চাকমাসহ মোট নয়জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষর করেন।

এর আগে, গত ১১ মার্চ পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ওসমান গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিয়মিত মাসিক সভা আয়োজন না করা, কোনো সভা আহ্বান ছাড়াই সরকারি বরাদ্দের অর্থ এককভাবে বণ্টন, পিআইসি প্রকল্পে নির্ধারিত ভ্যাট ও আয়করের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ত্রাণ সামগ্রী আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ এবং অর্থের বিনিময়ে ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কার্ড প্রদান।

সদস্যরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত উপেক্ষা করছেন। এর ফলে সাধারণ জনগণকে যথাযথ সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম (আলমগীর)। তিনি বলেন, “আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত নই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। উত্থাপিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে ইউএনও কাজী শামীম বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদস্যরা দাবি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইউনিয়ন পরিষদে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হোক।

উল্লেখ্য, কাজী নুরুল আলম (আলমগীর) জেলার রামগড় উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তিনি এখন পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed