পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান ঊষাতন তালুকদারের
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি দ্রুত সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি বাস্তবায়ন ঝুলে থাকায় পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি পৌর চত্বরে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিহু, চাংক্রান, বিষু ও চাংলান উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঊষাতন তালুকদার বলেন, চৈত্র মাসে এমনিতেই জুমচাষ নির্ভর পরিবারগুলো অভাব-অনটনের মধ্যে থাকে। তার ওপর সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু উদযাপন করতে পারছে না।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় অবহেলা, ভূমি অধিকার সংকট, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এবং ভাষা-সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোনো সাময়িক ইস্যু নয়; এটি একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার আন্তরিকতা দেখালে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, “একটি রোগ যদি দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকে, তবে তা জটিল আকার ধারণ করে। পার্বত্য সমস্যাও তেমনই। তাই দেরি না করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।” তিনি সরকারকে সব পক্ষকে নিয়ে টেবিলে বসে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।

পরে বেলুন উড়িয়ে এবং ঐতিহ্যবাহী বিজু নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন এবং নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সীমা দেওয়ান বলেন, “আমরা আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই।” অন্যদিকে প্রথমা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “পুরনো বছরের দুঃখ ভুলে নতুন বছরকে মঙ্গলময় করার প্রার্থনাই এই উৎসবের মূল বার্তা।”
উল্লেখ্য, ৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলা বছরের বিদায় ও বরণকে ঘিরে বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, বিহুসহ বিভিন্ন নামে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে, যা পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।