রাজস্থলীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকা রাজস্থলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন। তাৎক্ষণিক সাড়া, দ্রুত উপস্থিতি এবং আন্তরিক সহায়তায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এই উদ্যোগ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কালামা মারমা নামের এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারের আধাপাকা বসতঘরের ভেতরের প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং রান্নাঘরের আংশিক ক্ষতি হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্যোগ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিবারের সর্বস্ব প্রায় পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
জানা যায়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী বাড়িতে না থাকায় প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাপ্তাই জোনের রাজস্থলী ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ আবীর-এর নেতৃত্বে একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। দুর্গম ও যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত এলাকায় এমন দ্রুত উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি তৈরি করে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
পরে কাপ্তাই সেনা জোনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তারা জানান, এমন দুঃসময়ে সেনাবাহিনীর দ্রুত সহায়তা তাদের নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর এই মানবিক কার্যক্রম শুধু সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ, আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।