রাঙামাটিতে সিএনজি ভাড়া নিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে সংঘাত নিরসন
সড়কে কর্তব্যরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ইউপি সদস্যা ও মহিলা দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া বাজার এলাকায় সিএনজি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার বিকেলে ঘাগড়া বাজার সিএনজি স্টেশনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘাগড়া বাজার সিএনজি স্টেশন এলাকায় ভাড়া নিয়ে বাঙালি চালক আবুল হোসেন (৩৩) ও এক চাকমা যুবক প্রবেশ চাকমার মধ্যে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলেও কিছু সময় পর পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে প্রবেশ চাকমা পূর্ণময় খীসা নামের এক উশৃঙ্খল যুবকসহ আরও কয়েকজন যুবককে নিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন এবং সিএনজি চালকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় এক নারী জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের মজিলা সদস্যা ও উপজেলা বিএনপির মহিলা দলের সম্পাদিকা বর্ণা চাকমা একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও সংঘাত নিরসনের বদলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইন্ধন জুগিয়েছেন।
তিনি জানান, বর্ণা চাকমা সড়কে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বাঙালিদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকেন। তিনি মূলত একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পরই সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে ঘাগড়া আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং কাউখালী থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যোগ দিলে যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বর্ষবরণ উৎসবের মৌসুমে পাহাড়কে অশান্ত করার একটি চক্রান্তের অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে বাঙ্গালী চালকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী যখন উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল, তখন পাহাড়ি যুবকরাই উল্টো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যার কিছু বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ এপ্রিল উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ছোটখাটো বিরোধও দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে। এ কারণে স্থানীয়রা সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।