গুয়ানতানামো বে-তে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরল বৈঠক

গুয়ানতানামো বে-তে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরল বৈঠক

গুয়ানতানামো বে-তে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সামরিক কর্মকর্তাদের বিরল বৈঠক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কিউবার সামরিক নেতৃত্ব গুয়ানতানামো বে-তে এক বিরল সরাসরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের অবনতি চলতে থাকা দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার (২৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কিউবার সামরিক নেতৃত্ব গুয়ানতানামো বে-তে এক বিরল সরাসরি বৈঠকে মিলিত হন। ছবি: সংগৃহীত

গত শুক্রবার (২৯ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান কিউবার সামরিক প্রতিনিধি, জেনারেল রবার্টো লেগ্রা সোটোলঙ্গোর সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল অপারেশনাল নিরাপত্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকটি মূলত নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ‘সংক্ষিপ্ত আলোচনা’ ছিল। এর মধ্যে ছিল ঘাঁটির চারপাশের নিরাপত্তা, সেনা সদস্যদের সুরক্ষা, তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি।
 
ডনোভান বৈঠকের অংশ হিসেবে ঘাঁটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন। অন্যদিকে কিউবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুই পক্ষই বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে এবং ভবিষ্যতে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
 
ক্রমেই সম্পর্কের অবনতি
ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে আরও খারাপ হয়েছে। জানুয়ারি মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কিউবার ওপর কার্যত জ্বালানি অবরোধ আরোপ।
 
এই পরিস্থিতিতে কিউবা তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ, খাদ্য এবং ওষুধের ঘাটতি আরও বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, চীন এবং ইরানের মতো কিউবার মিত্র দেশগুলোর ওপরও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
 
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নতুন অভিযোগসাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সাবেক কিউবান নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে মিয়ামিভিত্তিক নির্বাসিত গোষ্ঠীর পরিচালিত বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করেছে।

 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, যদিও পরিস্থিতি কঠিন। এর আগে খবর আসে যে হাভানা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে গুয়ানতানামো বে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
 
গুয়ানতানামো ঘাঁটি ও কৌশলগত গুরুত্ব
গুয়ানতানামো বে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব কিউবায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি। এটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে মিয়ামির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিতর্কিত সামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত।
 
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর এখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি আটক কেন্দ্র স্থাপন করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ঘাঁটিকে অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য আটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
 
মার্কিন বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুয়ানতানামো ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও লজিস্টিক কেন্দ্র, যা পশ্চিম গোলার্ধে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
 
সাম্প্রতিক বৈঠকটি যদিও ছোট পরিসরের ছিল, তবুও এটি দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগের একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র, কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে যোগাযোগ এখনো চালু রাখা হচ্ছে।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *