যথাযোগ্য মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলো ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
![]()
নিউজ ডেস্ক
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে তাঁর মাতৃ ইউনিট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
দিবসটি উপলক্ষে ইউনিটে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিটের পক্ষ থেকে শহীদ মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।

এছাড়াও ইউনিট মসজিদে জোহরের নামাজের পর তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে তাঁর সমাধিস্থলে জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত সদস্যরা নীরব শ্রদ্ধায় এই বীর সেনানীর আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন সাহসী সৈনিক হিসেবে মোস্তফা কামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অসীম বীরত্ব প্রদর্শন করেন। সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি একাই শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে কভার ফায়ার চালিয়ে যান। চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে পড়লেও তিনি অবস্থান ত্যাগ করেননি এবং শেষ পর্যন্ত শত্রুর গুলিতে শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগের ফলে তাঁর প্লাটুনের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।

তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে তিনি আজও সাহস, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মোস্তফা কামালের আত্মত্যাগ শুধু একটি ইতিহাস নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর বীরত্বগাঁথা ‘দি বেবি টাইগার্স’-এর প্রতিটি সদস্যের মাঝে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর তাঁর শাহাদাত বার্ষিকীতে ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও দৃঢ়ভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।