উত্তপ্ত মণিপুর: বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ফের অস্থিরতা, ৫ দিনের শাটডাউন ঘোষণা

উত্তপ্ত মণিপুর: বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ফের অস্থিরতা, ৫ দিনের শাটডাউন ঘোষণা

উত্তপ্ত মণিপুর: বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ফের অস্থিরতা, ৫ দিনের শাটডাউন ঘোষণা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জেরে ফের রণক্ষেত্র ভারতের মনিপুর। কুকি-চিন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ এনে রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছে স্থানীয় মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকজন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এরই মধ্যে রাজ্যজুড়ে ৫ দিনের শাটডাউনের ডাক দিয়েছে মেইতেই নারীরা। এ অবস্থায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানে বসবাসকারী ৬০ হাজার নেপালি।

অপতথ্য ও গুজবকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুর। গেল তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা কুকি-চিন সম্প্রদায় ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সনাতন ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের দাঙ্গা দানা বেধেছে নতুন করে।

গতকাল (শনিবার, ১৮ এপ্রিল) রাতে কুকি-চিনদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামে বিষ্ণুপুর জেলার মেইতে সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। এপ্রিলের শুরুর দিকে জেলার থ্রংলবি গ্রামে বোমা হামলায় মেইতে সম্প্রদায়ের ২ শিশু নিহতের ঘটনা জের ধরে মূলত ঘটনার সূত্রপাত। সন্দেহভাজনদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সোচ্চার হন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দমাতে মাঠে নামে স্থানীয় পুলিশ। সেসময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। এ ঘটনায় আহত হন কয়েকজন। মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির ইউমনাম খেমচাঁদ সিং বিষ্ণুপুর পরিদর্শনের একদিনের মাথায় ঘটলো এমন ঘটনা।

এ ঘটনার পর মনিপুরের মেইতিই সম্প্রদায়ের নারীরা ৫ দিনের শাটডাউনের ডাক দিয়েছে। এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্ধ রাখা হয় সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা।

শুধু শিশু হত্যা নয় কুকি-চিনরা গাড়িবহর নিয়ে মেইতেইদের ওপর হামলা করতে এগিয়ে আসছে এমন খবরও ছড়িয়ে পরে। এছাড়া এক মেইতেই নারীকে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লো রোষানল বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

একই দিন মনিপুরের উখরুল শহরে হাইওয়েতে নিরাপত্তাকর্মীদের বহরে অতর্কিত হামলায় নিহত হন এক সেনা সদস্যসহ অন্তত ২ নাগা গোষ্ঠীর লোক। এ ঘটনার জন্যও কুকি-চিনদের দায়ী করা করা হচ্ছে।

মনিপুরের সাম্প্রদায়িক এই দাঙ্গায় বিপদে পড়েছেন সেখানে বসবাসকারী ৬০ হাজার নেপালি ভাষাভাষী মানুষ। চরম উৎকণ্ঠা ও ভয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

ভারত সরকারের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪-এর নভেম্বর পর্যন্ত মনিপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ গেছে আড়াইশ’র বেশি। আহত হয়েছে হাজারের ওপরে এবং ঘর ছাড়া হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।