করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করায় খাগড়াছড়িতে সহস্রাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা
![]()
নিউজ ডেস্ক
প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নির্দিষ্ট সময়ের পর দোকান-পাট বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারী জারি করা প্রজ্ঞাপন অমান্য করায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে এ পর্যন্ত অন্তত সহস্রাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন আইনে অর্থদন্ড করেছে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন।
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারি নির্দেশ না মানায় গত ২রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সাত জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও করোনা প্রতিরোধে জনগনকে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা আক্তার ববি। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে অপ্রয়োজনে মোটরযান নিয়ে ঘোরাফেরা ও আড্ডা দেওয়ার অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর বিধানমতে সাত জনকে চার হাজার নয়শ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
পরদিন ৩রা এপ্রিল শুক্রবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা অমান্য করায় খাগড়াছড়ি জেলা শহরে ১৯ জনকে ৬ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডু।
এদিকে ৪ঠা এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ করোনা প্রতিরোধে জনগনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা আক্তার ববি। এসময় বিনা কারণে আড্ডা দেয়া এবং মোটরযান নিয়ে ঘোরাফেরা করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারা মোতাবেক সাত জনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। একই দিন সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে জেলার গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি সদর উপজেলায় ৬৫ জনকে ২০ হাজার ৮শ টাকা জরিমানা করা হয় ।
মাটিরাঙ্গায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাসহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নিদর্শনা অমান্য করার দায়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ করোনা প্রতিরোধে জনগনেরর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভীষণ কান্তি দাশ। পৃথকভাবে চালানো অভিযানে ১১ জনকে অর্থদন্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর বিধানমতে চার জনকে ছয় হাজার পাঁচশ টাকা অর্থদন্ড করে ভ্রাম্যমান আদালত। এদিকে বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ি, আমবাগান, খেদাছড়া এবং গড়গড়িয়া বাজারে ভ্রম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফারাজানা আক্তার ববি। এ সময় দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর বিধানমতে সাত জনকে দুই হাজার টাকা অর্থদন্ড করে ভ্রাম্যমান আদালত।
এরপর গত ১১ এপ্রিল খাগড়াছড়িতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখায় ও বিনা কারণে ঘোরাঘুরি কারণে ৬৪ জনকে দন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে জেলার মাটিরাঙা, গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি সদরসহ নয় উপজেলায় ৬৪ জনকে ৪২ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা করা হয় ।
এছাড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল সোমবার ৮১জনকে, ৮ এপ্রিল বুধবার ৬৪জনকে, ১০ এপ্রিল শুক্রবার ৩৭জন ও ১১ এপ্রিল শনিবার ৬০জনসহ গত ১লা এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১দিনে মোট ৫২৬ জনকে, ১৩ এপ্রিল সোমবার ৬২ জনকে, ১৫ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭৩ জনকে বিভিন্ন অর্থদন্ডে দন্ডিত করে জেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন।
এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার পাশ্ববর্তী রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়িতে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারী সিদ্ধান্ত অমান্য করে সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখায় ১৯ এপ্রিল রবিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদরের চৌমুহনী বাজারে বাঘাইছড়ি স্টোরের মালিক জাকির হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৭ দিনের জেলের আদেশ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় দোকানি জাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করলে ৭ দিনের জেল মওকুফ করে প্রসিকিউশন দেয়া হয় এবং তাকে সতর্ক করা হয়।
এর আগে, চলতি মাসের ১১ তারিখও সরকারী আদেশ না মেনে দোকান খোলা রাখার অপরাধে একই দোকানীকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো বলে জানা যায়।