পদত্যাগ ছাড়াই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা: নতুন বিতর্কে মাধবী মারমা

পদত্যাগ ছাড়াই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা: নতুন বিতর্কে মাধবী মারমা

পদত্যাগ ছাড়াই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা: নতুন বিতর্কে মাধবী মারমা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দিয়েছেনবান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা পদত্যাগ না করেই জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল তিনি নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ-এ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে এখনও তিনি জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থান জামা লুসাই বলেন, “মাধবী মারমা এখনো পদত্যাগ করেননি। তিনি বিএনপি থেকে মহিলা এমপি হিসেবে মনোনীত হয়ে বাছাইয়েও টিকে গেছেন।”

সদস্য থাকা অবস্থায় মনোনয়ন জমা দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত কাগজপত্র হাতে পাননি; সম্ভবত অনলাইনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাধবী মারমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯-এর ৭৪ ধারা ও দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২১ ধারা অনুসারে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ হিসেবে গণ্য। একইসঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২(সি) ধারা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্র বা সংবিধিবদ্ধ কোনো কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া অযোগ্যতার মধ্যে পড়ে—এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে মাধবী মারমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দলীয় কোনো পদে না থেকেও মনোনয়ন পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

উল্লেখ্য, মাধবী মারমা ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহকারী আইন কর্মকর্তা (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান, যা এখনো বহাল রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পদত্যাগ না করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *