সাজেকে বনানি বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন

সাজেকে বনানি বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন

সাজেকে বনানি বন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় অবস্থিত বাঘাইহাট বনানি বন বিহারে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।

শনিবার (২ মে) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজন ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ ভক্তরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুধর্ম লংকার মহাস্থবির ভান্তে সাজেক, কল্যাণ সিদ্দি ভান্তে দুলুবনিয়া অরণ্য কুঠির, ধর্ম সিদ্দি মহাস্থবির ভান্তে নন্দরাম অরণ্য কুঠির লুম্বিনি কুঠির এবং বাঘাইহাট বনানি বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় কৃপারত্ন মহাস্থবির ভান্তে। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা, বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাক্যবদি চাকমা, বাঘাইহাট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দয়াধন চাকমাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকারা।

ভোরে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, প্রার্থনা ও সংঘদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বন বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধের জীবনী ও মানবকল্যাণমূলক বাণী নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ভিক্ষুসংঘ দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।

দুপুরের পর আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল দিনের অন্যতম আকর্ষণ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেন। শোভাযাত্রাটি বনানি বন বিহার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সাজেকের প্রধান সড়ক ও উজো বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিহারে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিমল চাকমা বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতার জন্য শান্তি ও সহমর্মিতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ভোজন বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ছিল আধ্যাত্মিক প্রশান্তির ছোঁয়া, যা উপস্থিত পূর্ণার্থীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন বিহারে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন প্রতি বছর শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *